কেন বাচ্চাগুলো হারালাম, কারও কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তার তদন্ত হবে: স্বাস্থ্য সচিব
টিকার সংকট এবং হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে সরকার। হামে কেন এতগুলো শিশুর মৃত্যু হলো, এ ক্ষেত্রে কারও কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের ফলাফল সাংবাদিকসহ দেশবাসীকে জানানো হবে। শনিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী তদন্ত কমিটি বিষয়ে কথা বলেন। স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন, এমন সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) এই বৈঠকের আয়োজন করে। হামে এ পর্যন্ত মোট ৩৫২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বক্তব্য উপস্থাপন করার আগে এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, টিকার সংকট ও হামের ঘটনায় কোনো তদন্ত হবে কি না।
মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কাজ করছি।’সাংবাদিকেরা জানতে চান, ঘটনার তদন্ত শুরু করবে, নাকি তদন্ত শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। কাজ চলছে।-এরপর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, কেন বাচ্চাগুলো হারালাম, কারও কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তার তদন্ত হবে।
কাদের নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে, কবে হয়েছেই—এ ধরনের কোনো প্রশ্নের উত্তর সচিব দেননি। তবে তিনি বলেছেন, তদন্তের ফলাফল সাংবাদিকসহ সবাইকে জানানো হয়ে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজির আহমেদ, মুশতাক হোসেন, আবদুস সবুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ আবদুল হামিদ, ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল, টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারি, ভাইরাস বিশেষজ্ঞ খন্দকার মাহবুবা জামিল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের ডিন সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পিডিয়াট্রিক ইনফেকশন ডিজিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মির্জা জিয়াউল ইসলাম। অনুষ্ঠানের ইউনিসেফ ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রতীক ইজাজ।
মারা গেল আরও ৯ শিশু, মৃত্যু সাড়ে ৩০০ ছাড়াল
হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ৯ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে তিন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ৬ শিশুর। এ পর্যন্ত মোট ৩৫২টি শিশুর মৃত্যু হলো।
এ সময়ে সারা দেশে আরও ৯৪৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৯ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৩৫ শিশু। হাম শনাক্ত হয়ে বরিশালে তিন শিশু মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় ৩, খুলনায় ২ ও সিলেটে এক শিশু মারা গেছে। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৯১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৬১ শিশু। এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩১টি শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ২৯ হাজার ৭৪৬ শিশু।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৬ হাজার ৯৭৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats