ভারতের মণিপুর রাজ্যের বরাক নদীর ওপর প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পটি ২০২৬ সালেও স্থবির। কবে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, তা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই ভারতের। তারপরও বাংলাদেশের সংসদে হুট করে আলোচনায় আসলেন প্রয়াত রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আবদুস সামাদ আজাদ।
আবদুস সামাদ আজাদ ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল মারা গেছেন। ২০২৬ সালে টিপাই নিয়ে তাকে নিয়ে কেন স্পিকার কথা বললেন সংসদে? বাংলাদেশের রাজনীতির ভিন্ন ধারার রাজনীতিবিদ ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন। স্বাধীনতার পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা ছিলেন এবং ১৯৯৬ সালে আবারও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন।
তিনি সবসময় বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারার পক্ষে ছিলেন। ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখেন। তখনকার প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের প্রতি তিনি কখনো কটুক্তি করেননি; বরং সংসদীয় রীতি-নীতি মেনে গঠনমূলক সমালোচনা করতেন। সেই সংসদে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে ছিলেন।
আবদুস সামাদ আজাদ নিয়ে বলা হতো, তিনি ঘুমিয়েও জেগে থাকতেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পরের একটি ঘটনা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সুধাসদনে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। হঠাৎ এস এম কিবরিয়া বললেন, “নেত্রী, একটি বিষয় আলাদাভাবে বলার ছিল।” সামনে বসা আবদুস সামাদ আজাদ তখন ঝিমাচ্ছিলেন, চোখ বন্ধ। শেখ হাসিনা বললেন, “চাচা ঘুমাচ্ছেন, আপনি বলুন।” কিবরিয়া বললেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে একটু ভাবতে হবে।” কথা শেষ হওয়ার আগেই আবদুস সামাদ আজাদ বলে উঠলেন, “নেত্রী কাকে কী দায়িত্ব দেবেন, তা তাঁর নিজস্ব বিষয়। তিনি আমাদের চেয়ে ভালো বোঝেন। এত কথার কী আছে?”
জীবনের শেষ দিকে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং দিল্লিতে চিকিৎসা নেন। সে সময় আমি এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক ছিলাম। দেশে ফেরার পর একদিন তিনি আমাকে ফোন করে বললেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চলছে, আমি নাকি খুব অসুস্থ। বুঝতেই পারছো কারা এসব করছে। আমি সিলেট যাচ্ছি, বড় সংবর্ধনা হবে। তুমি বিষয়টি টিভিতে দেখাবে।
এটিএন বাংলার সিলেট প্রতিনিধি ছিলেন শাহ মুজিবুর রহমান জকন, তাকে আমি নিয়োগ দিয়েছিলাম। তখন প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ভিডিও ধারণের পর ক্যাসেট পাঠাতে হতো। জকন বিমানের শেষ ফ্লাইটে ক্যাসেট পাঠান, এবং আমরা সংবাদটি ভালোভাবে প্রচার করি। আবদুস সামাদ আজাদ নিউজ দেখে খুশি হলেল। পরে ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ জনসভা; কিছুদিন পরই তিনি মারা যান।
আরেকটি ঘটনা দিয়ে শেষ করছি। ১৯৯৩ সালে আমি ভোরের কাগজে রাজনৈতিক, সচিবালয় ও সংসদবিষয়ক রিপোর্টার ছিলাম। একদিন সচিবালয়ে হঠাৎ আবদুস সামাদ আজাদকে দেখে বিস্মিত হলাম। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বললেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর আজ প্রথম সচিবালয়ে এলাম, নিজের কোনো কাজে নয়। আমাদের মির্জা আজমের এলাকায় উন্নয়নকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এলজিআরডি মন্ত্রী আবদুস সালাম তালুকদার। ছেলেটা কাজ করাতে না পারলে এলাকায় কী নিয়ে যাবে? তাই অলি সাহেবের কাছে এসেছি।” কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ তখন যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। তিনি আমাকে বসিয়ে রেখে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন, বলেছেন আজমের এলাকার সব করে দেবেন।
আবদুস সামাদ আজাদ কলাবাগানের বাড়িতে থাকতেন; মন্ত্রী হওয়ার পর ইস্কাটনে ওঠেন। তিনি ছিলেন ভিন্নমাত্রার একজন রাজনীতিবিদ। তার দেশপ্রেম নিয়ে সমালোচকরাও কখনো প্রশ্ন তোলেননি।
নঈম নিজাম, প্রাক্তন সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
১৮.০৪. ২০২৬
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats