Tuesday, 17 February 2026
The News Diplomats
ডিপ্লোমেটস প্রতিবেদক :
Publish : 01:30 PM, 17 February 2026.
Digital Solutions Ltd

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা যারা, ২৫ জেলায় মন্ত্রী নেই

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা যারা, ২৫ জেলায় মন্ত্রী নেই

Publish : 01:30 PM, 17 February 2026.
ডিপ্লোমেটস প্রতিবেদক :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিয়েছেন আজ মঙ্গলবার। সাধারণত বঙ্গভবনে মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হলেও এবার সেই প্রথা ভেঙে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে আয়োজন করা হয় শপথ অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের যাত্রা শুরু হলো।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে পদের শপথ ও গোপনতার শপথ পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর রাষ্ট্রপতি প্রথমে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং পরে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে পদের শপথ ও গোপনতার শপথ পাঠ করান।

বিএনপি ও সরকারি সূত্রগুলো বলেছে, ইতিমধ্যে নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, সেটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায়নি।

তবে কোনো কোনো মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নাম উল্লেখ করে জানিয়েছে, তাদের মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা আগামীকাল মন্ত্রণালয়ে অফিস করবেন। যেমন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন মন্ত্রণালয়ে অফিস করবেন। তাঁরা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এ ছাড়া কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নতুন মন্ত্রীদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে মন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর শাহে আলমের নাম আছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নতুন মন্ত্রী হিসেবে আফরোজা খানম ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে শেখ রবিউল আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসতে পারেন

সরকারি সূত্র ও বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা; সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র; ইকবাল হাসান মাহমুদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়; হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়; এ জেড এম জাহিদ হোসেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) পররাষ্ট্র; আবদুল আওয়াল মিন্টু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ধর্ম; মিজানুর রহমান মিনু ভূমি; নিতাই রায় চৌধুরী সংস্কৃতি; খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান; জহির উদ্দিন স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার; মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য; আফরোজা খানম বেসামরিক বিমান ও পর্যটন; শহীদ উদ্দীন চৌধুরী পানিসম্পদ; আসাদুল হাবীব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়; জাকারিয়া তাহের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত; দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়; আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা; ফকির মাহবুব আনাম ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং শেখ রবিউল আলম সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কারা কোন মন্ত্রণালয়ে

সরকারি সূত্র ও বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়; শরীফুল আলম বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র; সুলতান সালাউদ্দিন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য; কায়সার কামাল ভূমি; ফরহাদ হোসেন আজাদ পানিসম্পদ; আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক; হাবিবুর রশিদ সড়ক পরিবহন ও সেতু; মো. রাজিব আহসান রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়; মো. আবদুল বারী জনপ্রশাসন; মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়; মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) অর্থ ও পরিকল্পনা; ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়; ফারজানা শারমীন নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; শেখ ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও ধর্ম এবং আইন; মো. নুরুল হক নুর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; ইয়াসের খান চৌধুরী তথ্য ও সম্প্রচার; এম ইকবাল হোসেইন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; এম এ মুহিত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; ববি হাজ্জাজ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন। বিএনপির ফেসবুক পেজে প্রতিমন্ত্রী অনেকের মন্ত্রণালয়ের উল্লেখ করা হয়েছে।

আব্বাস, নজরুল, রিজভীসহ ১০ জনকে উপদেষ্টা নিয়োগ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

মন্ত্রী পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

২৫ জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নেই

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে দেশের ২৫ জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত নোয়াখালীর কোনো নেতার জায়গা হয়নি মন্ত্রিসভায়। আওয়ামী লীগ–অধ্যুষিত গোপালগঞ্জসহ কয়েকটি জেলা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পাচ্ছে না। দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জামায়াত–অধ্যুষিত এলাকাগুলোও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

মন্ত্রিসভার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কুমিল্লায় বিএনপি এবার ভালো করেছে। মন্ত্রিসভায়ও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গের আসন কম পেলেও বিএনপির মন্ত্রিসভায় ওই অঞ্চলের আধিক্য দেখা গেছে।

এবারের মন্ত্রিসভায় এমন অনেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, যাঁদের বাবা অতীতে বিএনপির মন্ত্রিসভায় ছিলেন। রাজধানী ঢাকায় মন্ত্রিসভার সদস্য থাকলেও ঢাকার আশপাশের অনেক জেলা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থেকে বাদ পড়েছে।

কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গা—এই ৮ জেলার ৩০টি আসনের কোনোটিতেই জেতেনি বিএনপি। ফলে এই আট জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নেই।

এর বাইরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী জেলা থেকে এবার কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। অতীতে এই জেলা থেকে মওদুদ আহমদের মতো নেতারা বিএনপির মন্ত্রী হয়েছিলেন।

বড় জেলার মধ্যে মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়েছে খুলনা। এ জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয়ী হয়েছে বিএনপি।

আবার যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই হেরেছে বিএনপি। একমাত্র আসনে জয়ী হয়েছেন অনিন্দ ইসলাম। তিনি এবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর বাবা তরিকুল ইসলাম বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারে অতীতে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

আওয়ামী লীগঅধ্যুষিত জেলাগুলোতে মন্ত্রী নেই

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জ থেকে এবার প্রথম তিনজন সংসদ সদস্য পেয়েছে বিএনপি। কিন্তু এ জেলার কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।

গোপালগঞ্জের মতো মাদারীপুর ও শরীয়তপুরও আওয়ামী লীগ–অধ্যুষিত জেলা হিসেবে পরিচিত। অতীতের প্রায় সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা দুটি জেলায় জয়ী হয়েছেন। এবার শরীয়তপুরের তিনটি এবং মাদারীপুরের তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রিসভায় কেউ জায়গা পাননি।

অবশ্য ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে একজন করে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক নেতা কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজবাড়ী থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

ঢাকার আশপাশে ফাঁকা

এবার ঢাকা জেলায় ২০টি আসনের মধ্যে ১৫টিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। রাজধানী ঢাকা থেকে শেখ রবিউল আলম পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন চারজন। এর মধ্যে ঢাকা-১৬ আসনে হেরে যাওয়া সাবেক ফুটবলার আমিনুল হককে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

ঢাকা জেলার দোহার, নবাবগঞ্জ, সাভার ও ধামরাইয়ে অতীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের বেশির ভাগ সময় জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। অতীতে নাজমুল হুদা, আবদুল মান্নানসহ অনেকেই ঢাকা জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এবার ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে জয়ী হওয়ার পরও বিএনপির কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।

ঢাকার পাশের জেলা মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর থেকে কেউ এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। মুন্সিগঞ্জ থেকে অতীতে বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এম শামসুল ইসলাম, মিজানুর রহমান সিনহাসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু এবার এ জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় কেউ জায়গা পাননি।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। একটি আসনে জোটের শরিক জমিয়তে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির দখলে যায়। নারায়ণগঞ্জের চারজন বিএনপির সংসদ সদস্যের কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।

গাজীপুরের পাঁচটি আসনের চারটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির নেতারা। কাপাসিয়ার আসনটিতে জামায়াত জয়ী হয়েছে। অতীতে এই জেলা থেকে এম এ মান্নান, আ স ম হান্নান শাহসহ অনেকেই বিএনপির মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন। এবার এই জেলা থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।

টাঙ্গাইল থেকে অতীতে একাধিক মন্ত্রি-প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারও এই জেলা থেকে মন্ত্রী হিসেবে ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন) ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দায়িত্ব পেয়েছেন।

উত্তরবঙ্গে একাধিক মন্ত্রী

এবার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিএনপি তুলনামূলকভাবে কম আসনে জয়ী হয়েছে। সেই তুলনায় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এই দুই বিভাগে ভালো করেছে। রংপুর বিভাগে ৩৩টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে মাত্র ১৩টি আসন। অন্যদিকে জামায়াত পেয়েছে ১৭টি এবং এনসিপি ২টি। কিন্তু মন্ত্রিসভায় এ বিভাগের আধিপত্য দেখা গেছে।

রংপুর বিভাগের মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রী হয়েছেন দিনাজপুর থেকে নির্বাচিত এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া লালমনিরহাট থেকে নির্বাচিত আসাদুল হাবিব দুলু মন্ত্রী ও পঞ্চগড়ের ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি ১১টি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে রাজশাহী বিভাগের বগুড়ার সন্তান। এর বাইরে বিভাগ থেকে দুজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং চারজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সিরাজগঞ্জ থেকে ইকবাল হাসান মাহমুদ, রাজশাহীর মিজানুর রহমান মিনু মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ইকবাল হাসান ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। অন্যদিকে মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বগুড়ার মীর শাহে আলম, নাটোর থেকে ফারজানা শারমিন, জয়পুরহাটের আবদুল বারী ও সিরাজগঞ্জের এম এ মুহিত। ফারজানা শারমিনের বাবা ফজলুর রহমান পটল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সরকারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

এগিয়ে কুমিল্লা

এবারের নির্বাচনে বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলে বিএনপি বিপুল আসন জিতেছে। এর মধ্যে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপি জয়ী হয়েছে। এ জেলা থেকে তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), জাকারিয়া তাহের ও শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।

বৃহত্তর কুমিল্লার মধ্যে চাঁদপুর থেকে আ ন ম এহসানুল হক মিলন পূর্ণ মন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মধ্যে নোয়াখালী জেলায় কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নেই। তবে ফেনী থেকে নির্বাচিত আবদুল আউয়াল মিন্টু ও লক্ষ্মীপুর থেকে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্ত্রী হয়েছেন।

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আজ মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রীরা। তাঁদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

BANGLADESH বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম ছবিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ শিরোনাম তারেক রহমানকে শুভকামনা, ভারত সফরের আমন্ত্রণ নরেন্দ্র মোদির শিরোনাম বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর, উপনেতা তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ শিরোনাম মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা যারা, ২৫ জেলায় মন্ত্রী নেই শিরোনাম নতুন বাংলাদেশ, স্মার্ট প্রধানমন্ত্রী, স্মার্ট সরকারের যাত্রা শিরোনাম বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে জামায়াত শপথই নেবে না