দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী কিম কন হি।
ঘুষ হিসেবে হীরার গয়না ও ব্র্যান্ডের ব্যাগ নিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হি। বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁকে। অভিশংসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট-ফার্স্ট লেডি একই সঙ্গে দণ্ডিত হলেন। এর আগে ২০২৪ সালে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির চেষ্টার ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচারে বাধা দেওয়ার দায়ে অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
বিশেষ প্রসিকিউটর দল জানিয়েছে, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে ৮০ মিলিয়ন ওন (৫৬ হাজার ডলার) মূল্যের উপহার গ্রহণ করেছিলেন ৫২ বছর বয়সী কিম কন হি। যার মধ্যে ছিল গ্রাফ ব্র্যান্ডের হীরার নেকলেস এবং বেশ কয়েকটি শ্যানেল ব্র্যান্ডের ব্যাগ।
আজ বুধবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক উ ইন-সুং রায়ে বলেন, কিম ব্যক্তিস্বার্থে পদমর্যাদার অপব্যবহার করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘কারও পদমর্যাদা যত উপরে হয়, তাঁকে তত বেশি সচেতনভাবে নিজেকে এ ধরনের আচরণ থেকে সংযত রাখতে হয়। তিনি এই প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং নিজের সাজসজ্জায় অতিমাত্রায় মনোযোগী ছিলেন।’
বুধবার শুনানি হওয়া তিনটি অভিযোগের একটিতে কিম দোষী সাব্যস্ত হন। এ অভিযোগে তাঁকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০০ কোটি ওন জরিমানার আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন দল। তবে বিচারক উল্লেখ করেন, কিম নিজ থেকে এসব ঘুষ দাবি করেননি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও নেই।
আদালতে তাঁকে নগদ ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ওন ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আদালত হীরার নেকলেসটি বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দেন।
একই সময় আদালত কিমকে স্টক প্রাইস ম্যানিপুলেশন (শেয়ারমূল্য কারসাজি) এবং ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এক রাজনৈতিক ব্রোকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে জনমত জরিপ গ্রহণের অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। ওই নির্বাচনে তাঁর স্বামী ইউন সুক ইওল জয়লাভ করেছিলেন।
কিমের বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীর দল কনজারভেটিভ পিপল পাওয়ার পার্টিতে ইউনিফিকেশন চার্চের অনুসারীদের যুক্ত করার একটি পরিকল্পনা এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বিনিময়ে উপহার গ্রহণের অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব মামলার শুনানি এখনো শুরু হয়নি।
রায়ের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে কিম বলেন, ‘আদালতের কঠোর তিরস্কার আমি বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছি এবং এর গুরুত্ব হালকাভাবে নেব না। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সবার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।’ এর আগে কিম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
সাবেক ফার্স্ট লেডি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে ‘বড় অন্যায়’ অভিহিত করেন। তবে তিনি শ্যানেল ব্যাগ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে দাবি করেন, তিনি ব্যবহার না করেই ফেরত দিয়েছিলেন।
গত আগস্টে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দেওয়ার সময় তিনি জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমার মতো একজন নগণ্য মানুষের জন্য জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হওয়ায় আমি সত্যিই দুঃখিত।’ কিমের সাথে ইউনিফিকেশন চার্চের লেনদেনের তদন্তের সূত্র ধরে চার্চের নেতা হান হাক-জাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফৌজদারি অভিযোগ ছাড়াও কিমের নামের সঙ্গে আরও নানা বিতর্ক জড়িয়ে আছে। গত বছর সুকমিউং উইমেনস ইউনিভার্সিটি তাঁর ১৯৯৯ সালে পাওয়া আর্ট এডুকেশন ডিগ্রি বাতিল করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিকতা পর্যালোচনা প্যানেল তাঁর মাস্টার্স থিসিসে নকলের (প্ল্যাজারিজম) প্রমাণ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats