24 August 2026
The News Diplomats
ডিপ্লোমেটস প্রতিবেদক :
Publish : 01:52 PM, 24 August 2026.
Digital Solutions Ltd

নুসরাত হত্যা: ৪ জনের সাজা কেন কমল, ১০ আসামি কেন খালাস?

নুসরাত হত্যা: ৪ জনের সাজা কেন কমল, ১০ আসামি কেন খালাস?

Publish : 01:52 PM, 24 August 2026.
ডিপ্লোমেটস প্রতিবেদক :

নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দিকে গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে হাই কোর্ট।

সাত বছর আগে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা তারই ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শ্লীলতাহানি করেন, আর সেই ঘটনা থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয় বলে হাই কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।

ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাই কোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়।

নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। এছাড়া চারজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সময় নুসরাতকে আটকে হাত বাঁধা, কেরোসিন ঢালা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় চারজন জড়িত ছিলেন বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে।

তবে কে নুসরাতের হাত ধরেছিল এবং কে আগুন দিয়েছিল—এ বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকায় চারজন আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে তুলে ধরা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, মামলার ঘটনার আগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা নুসরাত জাহান রাফির ‘শ্লীলতাহানি’ করেন। পরে ওই ঘটনায় করা মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি অন্যান্য দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে নুসরাতকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে এসেছে, ২৭ মার্চ সিরাজ-উদ-দৌলা যদি নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও অনৈতিক প্রস্তাব না দিতেন, তাহলে পরবর্তী ঘটনাগুলো হয়তো ঘটত না।

“তার কারাগারে যাওয়া, তাকে মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন, এর বিপক্ষে মানুষের অবস্থান এবং সমাজে যে বৈপরীত্য ও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল—এসবও ঘটত না বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে।”

২০১৯ সালে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। এর আগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর সে বছরের ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে।

সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পক্ষে নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তার মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনেও সক্রিয় ছিল মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; টানা পাঁচ দিন যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত নেয়।

নুসরাতকে যখন ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল, তখনও তিনি বলছিলেন, তিনি প্রতিবাদ করে যাবেন। প্রতিবাদী এই তরুণীর জন্য প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয় গোটা দেশজুড়ে।

হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ আলোচিত এ মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছিলেন। সবাইকে ঢালাও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় তার ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহারে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

নুসরাতের ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান হাই কোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাষ্ট্র যে বিচার দিয়েছে, আমরা সেই রায়ে সন্তুষ্ট। আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা ছিল এবং আদালত যে রায় দিয়েছেন, আমরা তা মেনে নিয়েছি।”

তবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে প্রশাসনের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

যে কারণে চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমল

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেকসহ অন্যান্য আইন কর্মকর্তা।

 

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যাবজ্জীবন পাওয়া চার আসামি প্রত্যেকেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন এবং সহ-আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য তা সমর্থন করেছে।

চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়ার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নুসরাতকে আটকে রাখা, হাত বাঁধা, কেরোসিন ঢালা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন আসামির ভূমিকা আদালতে এসেছে। তবে কে হাত ধরেছিল এবং কে আগুন দিয়েছিল—এ বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকায় চারজন মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আঁখি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চার আসামির ক্ষেত্রে আদালতের সামনে কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন—এমন পারিপার্শ্বিকতা থাকলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ থাকায় আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল না রেখে কমিয়ে যাবজ্জীবন দিয়েছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চারজন হলেন—নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।

১০ জন খালাস পাওয়ার কারণ কী

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দৃষ্টিতে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

খালাস পাওয়ারা হলেন—সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমীন, আফসার উদ্দিন ও কামরুন নাহার মনি।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির বলেন, ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির যেসব অংশ অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণের সঙ্গে সমর্থিত হয়েছে, আদালত সেগুলো বিবেচনায় নিয়েছেন। যেগুলো পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য বা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যের সঙ্গে মেলেনি, সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুল আলম বলেন, কোনো সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ১৬৪ ধারায় বলা কোনো বিষয় পুনরায় না বললে শুধু ওই ১৬৪ ধারার বক্তব্যের ভিত্তিতে তার সাক্ষ্যমূল্য থাকে না। ১৬৪ ধারার জবানবন্দি সাক্ষ্যের সমর্থন বা অসামঞ্জস্য দেখানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।

তিনি বলেন, মামলায় সাক্ষী মোস্তফা ও নুরুল আমিন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন আসামির নাম ও তাদের ঘটনাস্থলে দেখার কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তারা ওই আসামিদের নাম বলেননি। ফলে শুধু ১৬৪ ধারার বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ ছিল না।

 

রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবে কি না, এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুততম সময়ে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপির জন্য আবেদন করবে। এরপর খালাসপ্রাপ্তদের বিষয়ে যেমন, তেমনই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা এবং মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা আসামিদের বিষয়েও রায় সঠিক হয়েছে কি না তা পর্যালোচনা করা হবে। এরপর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারাও হাই কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

১৬৪ ধারার জবানবন্দি যেভাবে বিবেচনায় এসেছে

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১২ আসামির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির সবগুলো পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না এবং সব বক্তব্য অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে সমর্থিতও হয়নি।

তিনি বলেন, ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে একজন ব্যক্তি নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে অন্যদের বিষয়েও তথ্য দিতে পারেন; আবার নিজেকে জড়িত না করে অন্যদের জড়ানোর কথাও বলতে পারেন।

সৈয়দ ইজাজ কবির বলেন, কিছু জবানবন্দিতে আসামিরা নিজেদের না জড়িয়ে অন্যদের জড়িয়েছেন। আবার কিছু জবানবন্দিতে নিজেদের ও অন্যদের জড়ানোর কথা থাকলেও সেগুলো সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়ে সমর্থিত হয়নি। এ কারণে আদালত সেগুলো গ্রহণ করেননি।

তিনি বলেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া আসামিদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল—এমন কোনো জোরালো প্রমাণ আদালতের পর্যবেক্ষণে পাওয়া যায়নি।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানান, ১৬ আসামির মধ্যে চারজন ১৬৪ ধারায় কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। তারা হলেন—মাকসুদ কাউন্সিলর, আফসার উদ্দিন, রুহুল আমিন ও মোহাম্মদ শামীম। অন্যদিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেকেই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

কারাগারে বসেই হত্যার ষড়যন্ত্র

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় এস এম সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে মামলার অন্য আসামিরা সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেখানে নুসরাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আগের মামলা প্রত্যাহার করানোর কথা বলা হয়েছিল।

 

মামলা প্রত্যাহার না করলে নুসরাতকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও আদালতের সামনে এসেছে বলে জানান তিনি।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা শাহাদাত হোসেন শামীমের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আগে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। নুসরাত তা প্রত্যাখ্যান করায় শামীমের মধ্যে তার প্রতি আক্রোশ তৈরি হয়।

সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেপ্তারের পর শামীম অধ্যক্ষ মুক্তি পরিষদের আহ্বায়ক হন এবং সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে কারাগারে ষড়যন্ত্র করেন।

হত্যাকাণ্ডের সব প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়টিও তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও মামলার অন্যান্য আসামির জবানবন্দি থেকে স্পষ্ট হয়েছে বলে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন নুসরাতকে মিথ্যা কথা বলে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তার বান্ধবী নিশাকে সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে কেউ মারধর করছে। নিশা আগের মামলার (যৌন হয়রানির) একজন সাক্ষী ছিলেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, শাহাদাত হোসেন শামীম তখন নুসরাতকে আটকে রাখেন এবং অন্যরা তার হাত বাঁধা, কেরোসিন ঢালা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামি: (ঘড়ির কাঁটার দিকে) অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, জোবায়ের, সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, আবছার উদ্দিন, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমীন, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, কামরুন নাহার মনি, মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, . ইমরান হোসেন, মহিউদ্দিন শাকিল, মোহাম্মদ শামীম ও শাহাদাত হোসেন শামীম ঘড়ির কাঁটার দিকে: অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, জোবায়ের, সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, আবছার উদ্দিন, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমীন, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, কামরুন নাহার মনি, মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, . ইমরান হোসেন, মহিউদ্দিন শাকিল, মোহাম্মদ শামীম ও শাহাদাত হোসেন শামীম

নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামি: (ঘড়ির কাঁটার দিকে) অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, জোবায়ের, সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, আবছার উদ্দিন, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমীন, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, কামরুন নাহার মনি, মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, . ইমরান হোসেন, মহিউদ্দিন শাকিল, মোহাম্মদ শামীম ও শাহাদাত হোসেন শামীম ঘড়ির কাঁটার দিকে: অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, জোবায়ের, সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, আবছার উদ্দিন, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমীন, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, কামরুন নাহার মনি, মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, . ইমরান হোসেন, মহিউদ্দিন শাকিল, মোহাম্মদ শামীম ও শাহাদাত হোসেন শামীম

মৃত্যুকালীন জবানবন্দি

নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দিকে গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে হাই কোর্ট।

অ্যাটর্নি জেনারেল কাজল বলেন, নুসরাতের শরীরের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাকে প্রথমে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ফেনী সদর হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পৌঁছাতে প্রায় সাত ঘণ্টা সময় লাগে।

ওই সময়ের মধ্যে চিকিৎসক নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে জানান তিনি।

রুহুল কুদ্দুস কাজলের ভাষ্য অনুযায়ী, নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে নির্দিষ্ট কোনো আসামির নাম ছিল না। তিনি চারজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তির কথা বলেছিলেন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মৃত্যুকালীন জবানবন্দি গুরুত্বপূর্ণ মূল সাক্ষ্য। মৃত্যুর সময় একজন ব্যক্তি সাধারণত মিথ্যা কথা বলেন না—এটি মৃত্যুকালীন জবানবন্দির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বিচারিক নীতিতে বিবেচনা করা হয়।

“তবে কোনো মৃত্যুকালীন জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষেত্রে আদালত সতর্কতার সঙ্গে দেখে, ওই ব্যক্তির কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে জড়ানোর কোনো সুযোগ বা কারণ ছিল কি না।”

আশরাফুল বলেন, নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা, নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ বা জুবায়েরের কারও নাম ছিল না। বরং চারজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তির কথা বলা হয়েছিল।

এ কারণে মৃত্যুকালীন জবানবন্দির সত্যতা ও গুরুত্ব আদালতের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।

BANGLADESH বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম প্রধানমন্ত্রীর গভীর আস্থার প্রতীক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে ষড়যন্ত্র কেন? শিরোনাম নুসরাত হত্যা: ৪ জনের সাজা কেন কমল, ১০ আসামি কেন খালাস? শিরোনাম মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ‘আগ্রহ প্রকাশ’করেছে ঢাকা: হুমায়ুন কবির শিরোনাম আ.লীগ নেতাদের অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার অবসান চায় এইচআরডব্লিউ শিরোনাম কুড়িগ্রামে ডিলারের সার লুট করেছে কৃষকরা, কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ শিরোনাম সমন্বয়, কাজের মূল্যায়ন ও গতি বাড়াতে মন্ত্রিসভায় রদবদল