২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দায়িত্ব পালনকারী বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৩৩ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে রোববার চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। অন্তর্বর্ত্তীকালীন সরকারের সময়ে ওএসডি হওয়া ৩৩ জন তৎকালীন জেলা প্রশাসককে শিগগির বাধ্যতামূলক অবসরের পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢালাও ভাবে চাকরিচ্যুতির এই প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং যাদের সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বর্তমান সরকারি দল বিএনপি নিরপেক্ষ ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছে, তাদেরও কি একইভাবে মূল্যায়ন করা হবে?
এই আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এ জেড এম নুরুল হকের নাম। যিনি এখন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।
অথচ অন্তর্বর্ত্তীকালীস সরকারের সময়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিইসিকে চিঠি দিয়ে বলেছিলেন, একমাত্র চাপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টরা ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে করায় সেখানে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির দায়ের করা মামলায়ও চাপাইনবাবগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে—যদি কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে আইন ও বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে থাকেন এবং সে বিষয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দলিলেও উল্লেখ থাকে, তাহলে তাকে অন্যদের সঙ্গে একইভাবে মূল্যায়ন করা কতটা যৌক্তিক?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন গুরুতরও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রমাণ, দায়িত্ব পালনের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিবেচনায় নেওয়াই ন্যায়সংগত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী জেলা প্রশাসকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ৩৩ জন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এ জেড এম নুরুল হককেও ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠান। তিনি জনপ্রশাসন সচিব ও একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে এ জেড এম নুরুল হককে তার মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র দেননি। ফলে এখনও তিনি ওই মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন চাপাইনবাবগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার এ জেড এম নুরুল হক। সরকার দলীয় প্রার্থীদের যুদ্ধাংদেহী হুমকি, অর্থের প্রলোভন, নির্বাচন কমিশনের নিরব সম্মতি এবং সরকারের শীর্ষ মহলের কঠোর নির্দেশনায়ও তিনি নৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেননি। দিনের ভোট তিনি দিনেই করেছেন, আগের রাতে করতে দেননি। শুধু তাই নয়, সম্পুন্ন নিরপেক্ষভাবে ভোট কেন্দ্রে ভোটের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও তারা ছিলেন কঠোর। যার ফলে সারাদেশের মধ্যে একমাত্র চাপাইনবাবগঞ্জে মোট ৩টি আসনের মধ্যে দুইটিতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা বিজয়ী হন। একটি আসনে তৎকালীন র্যাব প্রধান তার আত্মীয় সরকার দলীয় প্রার্থীকে অবৈধ হস্তক্ষেপ ও নৈরাজ্য চালিয়ে খুবই অল্প ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করেন।
নির্বাচন কমিশনে বিএনপির চিঠিতে ব্যতিক্রম চাঁপাইনবাবগঞ্জ
গত ১৯ জুন ২০২৫ সালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে ৩ পৃষ্ঠার এক চিঠিতে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবৈধভাবে দিনের ভোট রাতে অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিয়ে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং মাঠপ্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুমিকা তুলে ধরে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। চিঠিতে তিনি বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মিদের গ্রেফতারের নামে তাণ্ডব, মারপিট, গুরুতর জখম, হত্যাসহ অনেক এমপি প্রার্থীকে মারপিটের বর্ণনা তুলে ধরেন।
এই চিঠিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, ‘একমাত্র চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে করায় চাপাইনবাবগঞ্জ সদর আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হারুন অর-রশীদ এবং গোমস্তাপুর, ভোলাহাট ও নাচল উপজেলা থেকে বিএনপি প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম সংসদ সদস্য হিসাবে বিজয়ী হন। তবে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ এলাকায় বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিয়াকে র্যাব প্রধানের হস্তক্ষেপে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ এর প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে’।
গত ২২ জুন ২০২৫ সালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপির দায়েরকৃত মামলায়ও ( মামলা নং ১১, তারিখ-২২/৬/২০২৫) উল্লেখ করা হয়, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সকল কমিশনারসহ সকল আসামীর যোগসাজসে পরিকল্পনা অনুযায়ি সকল জেলা ও মহানগরে দিনের ভোট রাতে করার নির্দেশ দিলেও একমাত্র চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা ব্যতিত সকল জেলা ও মহানগরে আগের রাতে সকল ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার কেটে ব্যালট বক্স পুর্ণ করে রাখে’।
আওয়ামী লীগ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অবৈধ পরিকল্পনা ও নির্দেশনা উপেক্ষা করে একজন রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক) এ জেড এম নুরুল হক দুঃসাহস দেখানোয় চরম হয়রাণীর শিকার হতে হয়েছে তাকে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তার এই হয়রাণী পিছু ছাড়ছে না। রাতের ভোটের কারিগরদের সঙ্গে তাকেও ওএসডি করা হয়েছে। অবশ্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বিস্তারিত জেনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দিয়ে এজেডএম নুরুল হকের নৈতিকতা, সততা ও সাহসের ভুয়াসি প্রশংসা করে ওএসডি আদেশ প্রত্যাহরের অনুরোধ করেছেন।
নির্ভরযোগ্য সুত্রমতে, সরকারের বন্দুকের নলের মুখে জীবন বাজি রেখে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরও তিনি প্রমোশন বঞ্চিত হয়েছেন। সম্প্রতি যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি হয়নি তার। এই পদোন্নতিতে ২০১৮ এর নির্বাচনকালীন ডিসি হিসাবে ঢালাও সিদ্ধান্তে এ জেড এম নুরুল হকও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাকেও রাতের ভোটের কারিগরদের সঙ্গে একই পাল্লায় বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের কিছুদিন পরই এ জেড এম নুরুল হককে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক থেকে প্রত্যাহার করা হয়। জেলা প্রশাসক থেকে প্রত্যাহারের পর তাকে একের পর এক চরম হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। পোস্টিং দেওয়া হয়েছে খুবই কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। ডিসি থেকে তুলে এনে ৪ বছরে বদলি করা হয়েছে ৬ বার। শুধু তাই নয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একজন অতিপ্রভাবশালী উপদেষ্টা, দুই জন মন্ত্রী এবং দুইজন এমপি তাহাকে চাকরিচ্যুতির হুমকিও দিয়েছেন। সে সময় অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা তার দিকে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। সেসময় জেলা প্রশাসক এ জেড এম নুরুল হক বলেছিলেন, ‘সারা দেশে কি হয়েছে, তা দেখার দায়িত্ব আমার নয়। আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে শতভাগ নিরপেক্ষভাবে আমার এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছি। বন্দুকের নলের সামনে মাথানত করিনি। অবশ্য এ জন্য নির্বাচনের পর সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অনেক ভর্ৎসনা পেতে হয়েছে। হয়রানি করা হয়েছে একের পর এক।’
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশে সব ডিসি-এসপিরা সরকারদলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে আগের রাতে ভোট করেছেন, সেখানে এক বিরল দৃষ্টান্ত গড়েছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ জেড এম নুরুল হক। অথচ হয়রাণি এখনও তার পিছু ছাড়াছে না।
ডিসির নিরপেক্ষতায় চাপাইনবাবগঞ্জে যা হয়েছিলো
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের জয়ী করতে তৎকালীন ডিসি-এসপিদের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের রাতে মোট ভোটের ৪০ ভাগ ব্যালটে সিলে মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে রাখে। রাতের ভোটের কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সারা দেশে আসন পেয়েছিল মাত্র ৫টি। আর তাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিবেচনা করলে সব মিলিয়ে মাত্র ৭টি। জামায়াত কোনো আসনই পায়নি। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর ডিসির শক্ত অবস্থানের কারণে, সে জেলায় ভোটের চিত্র ছিল ভিন্ন।
অভিযোগ রয়েছে, ডিসি-এসপি এবং ইউএনও- ওসিরা সে সময় প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ‘অর্থ বখশিশ’ পান। সরকারদলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের আলোচিত-সমালোচিত ওই ডিসি-এসপিদের ফাইল অন্তর্বর্ত্তীকালীন সরকারের সময়ে তদন্তও করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের কর গোয়েন্দা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন। সুত্রমতে, তদন্তে এ জেড এম নুরুল হকসহ আরো দুজন জেলা প্রশাসকের কোনো দুর্নীতি কিংবা অনিয়ম খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা।
নির্বাচনের কিছুদিন পর চাঞ্চল্যকর আরেকটি ঘটনায় সরকারের প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা তার ওপর প্রচণ্ড রুষ্ট হন। এ সময় জেলার শিবগঞ্জে সবচেয়ে বড় সরকারি জলমহাল ‘কুমিরাদহ’ লিজ দেওয়া নিয়ে তোপের মুখে পড়েন ডিসি এ জেড এম নুরুল হক।
সরকারি জলমহালটি নিজেদের ব্যক্তিগত মালিকানা দাবি করে তা লিজ দিতে বাধা দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মাইনুর রেজা চৌধুরীর ভাই কাইয়ুম রেজা চৌধুরী। তিনি উচ্চ আদালতে মামলাও করেন। কিন্তু কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় জেলা প্রশাসক সরকারি জলমহালটি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলে সরকারের শীর্ষ মহল থেকে একের পর এক ফোনে লিজ না দিতে বলা হয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান টেলিফোনে জেলা প্রশাসককে জলমহাল লিজ না দিয়ে তার বন্ধু কাইয়ুম রেজা চৌধুরীকে বুঝিয়ে দিতে বলেন।
কিন্তু নুরুল হক তা প্রত্যাখ্যান করে উপদেষ্টাকে বলেন, নথি অনুযায়ী এটি সরকারি জলমহাল। আদালতের নির্দেশ কিংবা সরকারি আদেশ ছাড়া এই জলমহাল কাউকে বুঝিয়ে দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ সময় উপদেষ্টা চরম উত্তেজিত হয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকিও দেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও জলমহালটি লিজ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে ডিসিকে বলেন। কিন্তু ডিসি লিখিত চাইলে সবাই তার ওপর চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন। এর কিছুদিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বান্ধবীর স্বামী হিসেবে পরিচিত প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ কোনো ধরনের সরকারি প্রোগ্রাম ছাড়াই কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর আমন্ত্রণে গিয়ে হাজির হন চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে অনুরোধ করেন জলমহালটি লিজ না দিতে। কিন্তু ডিসি নুরুল হক রাজি হননি।
তিনি মন্ত্রীকে বলেন, সরকার যেহেতু চায়, একটা লিখিত আদেশ দিলেই হয়। আর আদালত কিংবা সরকারের লিখিত আদেশ ছাড়া সরকারের নীতি লঙ্ঘন করতে পারবেন না বলে মন্ত্রীকে বিনয়ের সঙ্গে বলেন। একপর্যায়ে একজন বিতর্কিত ব্যক্তির বাড়িতে মন্ত্রী মধ্যাহ্ন ভোজে যেতে আপত্তি করেন জেলা প্রশাসক। সেদিন কাইয়ুম রেজা চৌধুরী তার বাড়িতে প্রবাসী মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিতর্কিত কুমিরাদহ জলমহালে নৌ ভ্রমণের আয়োজন করেছিলেন। মন্ত্রী ইমরান আহমদ জেলা প্রশাসকের আপত্তি উপেক্ষা করে কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজে গেলেও নৌ-ভ্রমণ বাতিল করেন।
এর কয়েকদিন পরই এ জেড এম নুরুল হককে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পদায়ন করা হয় খুবই কমগুরুত্বপূর্ণ ইপিবির পরিচালক পদে। কয়েক মাসের মাথায় সেখানে থেকে জাতীয় সংসদে। সেখান থেকেও কয়েক মাস পর দেওয়া হয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে। তারপর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার। সেখানেও টিকতে পারেননি নুরুল হক। প্রভাবশালী মহল তাকে ‘সরকারের অসহযোগী’ আখ্যায়িত করে বদলি করে কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডে। সেখান থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে।
এই অবস্থায় বিএনপির নির্বাচন কমিশনে দেওয়া চিঠি, মামলার এজাহারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সম্পর্কে অভিমত এবং ওই জেলার নির্বাচনী ফলাফল—সব মিলিয়ে এ জেড এম নুরুল হকের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন দেখার বিষয়, চলমান প্রশাসনিক মূল্যায়নে এসব বিষয় কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং সরকার ব্যক্তিভিত্তিক মূল্যায়নের নীতি অনুসরণ করে কি না। কিংবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা একজন ন্যায়পরায়ন কর্মকর্তা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে কতটুকু ন্যায় বিচার পান?
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats