ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগে উৎসাহীদের জন্য আছে সরকারি সুকুক বন্ড। বিভিন্ন মেয়াদের সুকুকের মাধ্যমে এর আগে ৪৮ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে সরকার। গত ২৮ জুন প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি সুকুকের নিলাম করা হয়। ২৭৩ দিন মেয়াদি এই বন্ডের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক’।
শরিয়াহভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি এই বন্ড প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। সরকার এই নিলাম থেকে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বিনিয়োগকারীরা ৫৬ হাজার ৬০৭ কোটি টাকার দরপত্র জমা দেন। অর্থাৎ, লক্ষ্যের চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
বিনিয়োগকারীদের বিপুল আগ্রহের কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সুকুকের মাধ্যমে আরও তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী দিনে বিভিন্ন মেয়াদের সুকুক নিলামের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা তোলা হতে পারে।
সুকুক হলো প্রচলিত বন্ডের বিকল্প ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ। প্রচলিত বন্ডে যেখানে সুদ দেওয়া হয়, সেখানে সুকুকে কোনো সুদ থাকে না। বরং সুকুকের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ কোনো সম্পদ বা প্রকল্পে বিনিয়োগ করে সেখান থেকে যে আয় হয়, তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা হিসেবে ভাগ করে দেওয়া হয়। সরকারের সর্বশেষ এই সুকুকটি ‘ইজারা সুকুক’ কাঠামোর। অর্থাৎ, এখানে বিনিয়োগকারীরা সুদের বদলে ইজারা বা ভাড়ার আয় থেকে মুনাফা পাবেন।
কারা বিনিয়োগ করতে পারবেন
ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
কত বিনিয়োগ করা যাবে
সুকুকে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা যায়। তবে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই।
কীভাবে বিনিয়োগ করবেন
যেকোনো তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সুকুকে বিনিয়োগের আবেদন করা যাবে। তবে যারা প্রথমবারের মতো সুকুকে বিনিয়োগ করবেন, তাদের ব্যাংক থেকে একটি ‘সুকুক ইনভেস্টর’ (এসআই) আইডি খুলে নিতে হবে। আর যারা আগে সুকুকে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের নতুন করে আইডি খোলার প্রয়োজন নেই।
মুনাফায় উৎসে কর
বিনিয়োগকারীর হিসাবে টাকা জমা হওয়ার আগে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হবে।
মেয়াদ পূর্তির আগে নগদায়ন বা বিক্রি
মেয়াদ পূর্তির আগেও প্রয়োজন হলে নগদায়ন করা যাবে। প্রচলিত বাজার পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য নিয়মনীতি মেনে বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ পূর্তির আগেই সুকুক ভাঙাতে বা বিক্রি করতে পারবেন।
সঞ্চয়পত্র ও এফডিআরের তুলনায় মুনাফা
সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকের স্থায়ী আমানতে যে ধরনের মুনাফা পাওয়া যায়, সুকুকের মুনাফাও প্রায় কাছাকাছি। তবে মূল পার্থক্য হলো, সুকুকে সুদের বদলে নির্দিষ্ট সম্পদের আয় থেকে মুনাফা দেওয়া হয়। ইসলামি শরিয়াহসম্মত করতে মুনাফার হার নির্দিষ্ট থাকে না।
মেয়াদ শেষে কীভাবে আসল ও মুনাফা পাওয়া যাবে
মেয়াদ পূর্তিতে বিনিয়োগ করা মূল টাকা এবং এর বিপরীতে জমা হওয়া মুনাফা একসঙ্গে এককালীন পরিশোধ করা হবে। এই টাকা সরাসরি বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যাবে।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats