বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার নিজে ব্যালট পেপারে নেই, তবে আজ বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মেকারফিল্ড আসনের বিশেষ উপ-নির্বাচনে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এই দুর্গে লড়াই করছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারকে হটিয়ে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন তিনিই। অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’র প্রার্থী রব কেনিয়নকে হারিয়ে বার্নহ্যাম যদি মেকারফিল্ড আসনে লেবার পার্টির হয়ে জয়ী হন, তবে তিনি কমন্স সভায় (সংসদ) ফিরবেন। আর এর পরপরই তিনি সংকটে থাকা কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করবেন বলে প্রায় নিশ্চিত। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জনগণ আমার ওপর আস্থা রাখলে আমি বৃটেনের রাজনীতি বদলে দেব। বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের নজর এখন এই আসনের দিকে, যার ফলাফল শুক্রবার ভোরে জানা যাবে।
স্টারমারের জনপ্রিয়তা ধস ও লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ: ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সাধারণ নির্বাচনে বিশাল জয় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন বাম-ঘেঁষা লেবার পার্টির নেতা কিয়ের স্টারমার। তবে মাত্র দুই বছরের মাথায় তার জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থতা, ভেঙে পড়া সরকারি পরিষেবা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় তার সরকার চরম সংকটে। এর ওপর বিতর্কিত ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে বৃটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত স্টারমারের কর্তৃত্বকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। গত মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর বহু এমপি স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেন। তবে স্টারমার পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে দলের সিনিয়র নেতারা তাকে সরানোর কৌশল নেন। মে মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, যেখানে আমাদের দূরদর্শিতার প্রয়োজন, সেখানে এখন এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এরপরই মেকারফিল্ডের লেবার এমপি জশ সাইমনস পদত্যাগ করে উপ-নির্বাচনের পথ তৈরি করেন, যাতে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সংসদে ফিরে আসার সুযোগ পান।
যেভাবে হতে পারে নেতৃত্ব বদল: বৃটেনের সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতাসীন দল চাইলে মেয়াদের মাঝপথে তাদের নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করতে পারে। লেবার পার্টির নিয়ম অনুসারে, কোনো এমপি যদি সংসদের এক-পঞ্চমাংশ অর্থাৎ অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন পান, তবে তিনি দলের নেতার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। এদিকে, ফ্রান্সের জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেয়া স্টারমার দাবি করেছেন তিনি পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, কোনো চ্যালেঞ্জ এলে আমি লড়াই করব। ২০২৪ সালে আমরা পরিবর্তনের ম্যান্ডেট নিয়ে জিতেছি, আমি মাঠ ছেড়ে পালাব না। স্টারমার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বার্নহ্যাম জিতলে তাকে ক্যাবিনেটে বড় পদ দেয়া হতে পারে, তবে বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন তিনি এতে আগ্রহী নন। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক রব ফোর্ড বলেন, বার্নহ্যামের গোপন ও বড় ব্যবধানের জয় স্টারমারের ওপর চাপ বাড়াবে। পুরো ক্যাবিনেট যদি একযোগে বলে যে আমরা আপনার অধীনে কাজ করব না, তবে স্টারমারকে সম্মানজনক বা অসম্মানজনক— যেকোনো উপায়েই হোক, খুব দ্রুত বিদায় নিতে হবে।রাজনৈতিক সংবাদ
রিফর্ম ইউকে’র চ্যালেঞ্জ: মেকারফিল্ড আসনটি গত এক শতাব্দী ধরে লেবার পার্টির দখলে থাকলেও এবার ‘রিফর্ম ইউকে’র প্রার্থী রব কেনিয়ন (পেশায় একজন প্লাম্বার) তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। উত্তর ইংল্যান্ডের শিল্পাঞ্চলগুলোতে অভিবাসন ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে রিফর্ম ইউকে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের জয় স্টারমারের জন্য বড় ধাক্কা হবে ঠিকই, কিন্তু যদি কোনো কারণে রিফর্ম ইউকে এই আসনে জিতে যায়, তবে তা লেবার পার্টির জন্য হবে চরম বিপর্যয়। কারণ অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই মুহূর্তে লেবার পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ। ডানপন্থীদের ঠেকাতে যিনি সবচেয়ে যোগ্য, তিনি নিজেই যদি হেরে যান, তবে লেবার পার্টির জন্য সেটি হবে এক মহাসংকট।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats