Saturday, 06 June 2026
The News Diplomats
অবিনাশ পালিওয়াল :
Publish : 03:06 PM, 05 June 2026.
Digital Solutions Ltd

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-২

বাংলাদেশের অসমাপ্ত বিপ্লব, নির্বাচন সুষ্ঠু তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়

বাংলাদেশের অসমাপ্ত বিপ্লব, নির্বাচন সুষ্ঠু তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়

Publish : 03:06 PM, 05 June 2026.
অবিনাশ পালিওয়াল :

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান, সংস্কার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ‘কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’ তাদের ওয়েবসাইটে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে। “বাংলাদেশ’স আনফিনিশড রেভোল্যুশন’’ শিরোনামে এই প্রবন্ধ লিখেছেন অবিনাশ পালিওয়াল। নিজউ ডিপ্লোমেটস পাঠকদের জন্য লেখাটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করে প্রকাশ করা হলো। (প্রথম নিউজের দ্বিতীয় অংশ)

নির্বাচন: অবাধ সুষ্ঠু, তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়

২০২৬ সালের নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই নির্বাচন অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল না। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যতের একটি রাজনৈতিক সংকটের ভিত্তি তৈরি করে। এটি পুরোপুরি আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হলেও আওয়ামী লীগের এই বাদ পড়া এমন এক অতীতের ধারাবাহিকতাকেই নির্দেশ করে, যেখানে বিরোধী দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ ছিল না।

১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ১৯৯১, ১৯৯৬ (জুন), ২০০১, ২০০৮ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য বা কারচুপি ও জবরদস্তিমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো শেখ হাসিনার শাসনামলে অত্যন্ত সমস্যাজনক ছিল বলে বিবেচিত হয়। এসব নির্বাচন ব্যাপক ভোট জালিয়াতি এবং বিরোধী পক্ষকে পরিকল্পিতভাবে দমন করার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল বলে ব্যাপকভাবে নথিভুক্ত রয়েছে।

শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। তাদের অনেক নেতা গ্রেপ্তার হন, আর কিছু নেতাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই মামলাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। একই সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়, অনেকে দেশছাড়া হন বা ভয় দেখিয়ে তাঁদের চুপ করিয়ে রাখা হয়, কিংবা সরকারের প্রতি সমর্থন দিতে বাধ্য করা হয়।

এই পদক্ষেপগুলোর ফলে বাংলাদেশের একটি পুরো প্রজন্মের তরুণ তাঁদের ভোটাধিকার কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় গিয়ে পৌঁছায়।

শেখ হাসিনার সময় যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অপব্যবহৃত হয়েছিল, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই একই ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে এ রায় এখনো কার্যকর করা হয়নি। কারণ, হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসনে আছেন। আওয়ামী লীগকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার এ দলের অপরাধকে কারণ হিসেবে দেখায়।

বর্তমানে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো সমস্যা মনে হচ্ছে না। শেখ হাসিনার অতীতের কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা এবং সাম্প্রতিক সময়ের সংবেদনশীলতা, পাশাপাশি তাঁর চলমান নির্বাসন—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসব বিষয় খুবই স্পর্শকাতর। তাই আওয়ামী লীগের দ্রুত পুনরুত্থানও এখন অসম্ভব মনে হচ্ছে।

যদিও আইনের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তবু এ সিদ্ধান্ত আগের সময়ে বাংলাদেশের যেসব নির্বাচন নিয়ে সমস্যা ছিল, তার মতোই একটা কাঠামোগত সমস্যায় ফেলার সংকেত দেয়। কারণ, আওয়ামী লীগের এখনো দেশের অনেক জায়গায় সমর্থক আছেন। আর তাঁরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত—এই পরিচিতি তাঁদের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছে।

যদিও হাসিনা পরিবারের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তবু আওয়ামী লীগ সময়ের সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আবারও ফিরে আসতে পারে। কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে, কত সময় পরে এবং কোন কারণে এই পুনরুত্থান ঘটবে, তা এখনো অনুমানসাপেক্ষ। তবে বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি যদি ভবিষ্যতে দুর্বল হয় এবং সেই শূন্যতা জামায়াতে ইসলামীও পূরণ করতে না পারে, তাহলে ২০৩১ সালের নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগের আবার ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আরেকটি বড় বিরোধের বিষয় ছিল ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথম কয়েক মাসে ইউনূস চেয়েছিলেন সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য চার থেকে পাঁচ বছরের একটি পূর্ণ মেয়াদ দেওয়া হোক। কিন্তু সেনাবাহিনী ও বিএনপি—দুই পক্ষই এ অবস্থানকে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি।

ইউনূসের মতে, সত্যিকারের সংস্কার করার জন্য এত সময় প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি গঠন করা ছাত্ররা এবং জামায়াতে ইসলামী এই দীর্ঘ সময়কে নিজেদের জন্য সুবিধাজনক হিসেবে দেখেছিল। কারণ, নির্বাচন যত দেরি হতো, বিএনপির জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তত বাড়ত। এতে জামায়াত ও এনসিপির জন্য নিজেদের ভোটভিত্তি সম্প্রসারণের বেশি সময় পাওয়া যেত।

সেনাবাহিনীর জন্যও দীর্ঘ অন্তর্বর্তীকাল মানে ছিল—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাজিস্ট্রেসির মতো দায়িত্ব তাদের আরও দীর্ঘ সময় বহন করতে হবে। ২০২৪ সালের অস্থিরতার পর পুলিশ বাহিনীর ওপর জনগণের ক্ষোভ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তারা কিছু সপ্তাহ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। পরে ধীরে ধীরে তারা স্বাভাবিক দায়িত্বে ফিরে আসে। পুলিশকে অনেকেই তখন হাসিনার ব্যক্তিগত বাহিনী হিসেবে দেখত। ফলে সেনাবাহিনী যত বেশি সময় রাস্তায় থাকতে বাধ্য হচ্ছিল, তাদের ভেতরেও চাপ বাড়ছিল। কারণ, সেনাসদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী ছিলেন না।

সেনাবাহিনী: হিসাব করা সংযম

২০২৬ সালের নির্বাচনে সেনাবাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে নিজেদের দূরে রাখার মাধ্যমে তাদের পেশাদারি ও ব্যবস্থাগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে। এটিকে দক্ষিণ এশিয়ার এই তুলনামূলকভাবে তরুণ গণতান্ত্রিক দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়।

বাংলাদেশে সেনাশাসনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৭১ সালের পর থেকে এখানে মোট ২৯টি অভ্যুত্থান ও বিদ্রোহের চেষ্টা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৫ সালের আগস্ট ও নভেম্বর, ১৯৮২ ও ২০০৭ সালের চারটি অভ্যুত্থানে সফল ক্ষমতা দখল ঘটে।

কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে আন্দোলনকারীদের ওপর শেখ হাসিনার সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ থাকলেও সেনাবাহিনীর দিক থেকে গুলি না চালানোর সিদ্ধান্তকে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের পক্ষ থেকে একধরনের ‘নীরব অভ্যুত্থান’ হিসেবেই বিবেচিত হয়।

অনেকের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ এমন এক পরিস্থিতিতে ছিল, যেখানে সামরিক অভ্যুত্থানের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় ওয়াকার-উজ-জামান দেশব্যাপী কারফিউ জারি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের তদারকি করেন এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউনূস তাঁকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা প্রদান করেন।

তবে অতীতের সামরিক শাসনের মূল্য ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ওয়াকার-উজ-জামান দ্রুত বেসামরিক (সিভিল) শাসনে ফিরে যাওয়ার ওপর জোর দেন এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে তিনি ইউনূসের দীর্ঘমেয়াদি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার আশা সীমিত করার উদ্যোগ নেন।

নতুন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

তারেক রহমানের প্রথম মেয়াদে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে। সেগুলো হলো জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির নিজের ভেতর দ্বিধা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পুরোনো ও জটিল সম্পর্কের প্রভাব।

সব মিলিয়ে বোঝা যায়, ‘বিপ্লব’ বা বড় পরিবর্তনের কথা বলা হলেও বাস্তবে পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনেক অংশ এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে।

বিএনপি জুলাই সনদ

সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে রূপান্তর করার সুযোগ তৈরি হয়। এর জন্য বিএনপির জুলাই সনদ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়।

নির্বাচনের আগেই বিএনপি জুলাই সনদের কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি তোলে। সনদে বলা হয়েছিল, উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে প্রতিটি দল যে পরিমাণ ভোট পাবে, তার অনুপাতে। কিন্তু বিএনপি বলেছিল, এটি হওয়া উচিত নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের অনুপাতে।

এ ছাড়া সনদে প্রস্তাব ছিল—মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল ও সরকারি কর্ম কমিশনের প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা থাকবে না। এসব নিয়োগ সাংবিধানিকভাবে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ করার কথা বলা হয়। বিএনপির মতে, এগুলো সংবিধানে না রেখে সাধারণ আইন দিয়েই ঠিক করা উচিত।

জুলাই সনদে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নির্বাচন করবে একটি সব দলের সম্মতিতে (ঐকমত্যে) গঠিত কমিটি। এই কমিটির কাজ হবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। কিন্তু বিএনপি এতে আপত্তি জানায়। তাদের মত ছিল—যদি ওই কমিটির সবাই মিলে একমত হতে না পারে, তাহলে সিদ্ধান্তটা সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত।

জুলাই সনদের এমন অবজ্ঞা মূলত বিএনপির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক আধিপত্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। বিএনপি শুরু থেকে যে বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে ছিল, ক্ষমতায় আসার পর তারা সেগুলোকে শুধু বাতিল বা প্রত্যাখ্যানই করেনি; বরং এমন কিছু প্রস্তাবও তারা পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করছে, যেগুলো তারা আগে সমর্থন করেছিল।

এর একটি উদাহরণ হলো সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠন। আগে বিএনপি এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছিল। কারণ, এর মাধ্যমে বিচার বিভাগকে প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ে নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করত। কিন্তু এখন বিএনপি এই প্রস্তাব স্থগিত করছে, যাতে বিচার বিভাগের ওপর নিজেদের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়।

মজার বিষয় হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের যে অধ্যাদেশ বিএনপি ধরে রেখেছে, তা হলো আওয়ামী লীগকে সক্রিয় রাজনীতিতে স্থগিত রাখা। এমনকি তারা অন্তর্বর্তী সরকারের এই নিষেধাজ্ঞাকে আরও আনুষ্ঠানিক করেছে, যাতে দলটির মূলধারার রাজনীতিতে ফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিসর সীমিত করে বিএনপি এখন দলটির অবশিষ্ট কর্মী ও নেতাদের নিজেদের দলে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

যদিও এসব পদক্ষেপকে আপাতত বিএনপির ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার স্বল্পমেয়াদি কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে, তবু এগুলো দীর্ঘ মেয়াদে বিএনপির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দিকেই ইঙ্গিত করে। তারেক রহমান আদালত ও আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চান। পাশাপাশি তিনি বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখতে চান।

বিএনপি সরকারের আরেকটি বিতর্কিত পদক্ষেপ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে অপ্রত্যাশিতভাবে সরিয়ে দেওয়া। ব্যাংক খাতের অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বা ক্যারিয়ার আমলাদের বদলে ওই সংবেদনশীল পদে রাজনৈতিকভাবে অনুগত একজন করপোরেট হিসাবরক্ষককে পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

যদি এসব পদক্ষেপ নিয়মিত প্রবণতায় পরিণত হয়, তাহলে বাংলাদেশ আবার সেই ২০০৯-২০১১ সালের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে, যখন শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিলেন এবং বিরোধী দলকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। এ ধরনের প্রবণতা স্বল্প মেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখালেও দীর্ঘ মেয়াদে গণতান্ত্রিক অগ্রগতিকে ক্ষয় করে।

বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে নীরব। উভয় দলই সংসদে কঠোর লড়াই করার বদলে নতুন প্রভাবশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের ভোটভিত্তি ও জাতীয় গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। কিন্তু যদি বিএনপি ভবিষ্যতে জামায়াত ও এনসিপির ওপর রাজনৈতিক চাপ ও বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করে, তাহলে তা সম্ভবত রক্ষণশীল ও ইসলামপন্থী ধারায় সক্রিয় রাজনৈতিক আন্দোলনকে উসকে দেবে।

পরবর্তী অংশ পড়ুন -২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান -৩এ

OPINION বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স, হতাশায় ডুববে ব্রাজিল, আলোচনায় নেই আর্জেন্টিনা শিরোনাম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তিন দিনের সফরে কাল রাশিয়া যাচ্ছেন শিরোনাম তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত শিরোনাম ইসরায়েল ও নেতানিয়াহুকে নেতিবাচক চোখে দেখেন বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ শিরোনাম এই সরকার ফুঙ্গা, জন্মের ঠিক নাই-কথাটা ঠিক কিনা? শিরোনাম তিন সীমান্তে ৬১ জনকে ‘ঠেলে দেওয়ার’চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধা