আজ রাতে পাকিস্তান যেতে পারে ইরানের প্রতিনিধি দল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে দেশটির একটি প্রতিনিধি দল আজ শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। পাকিস্তানের কয়েকটি সরকারি সূত্র আল-জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে।
এর আগে আজ দিনের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোনে কথা বলেছেন। উভয় পক্ষ এ খবর নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফোনে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইসহাক দার নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, আরাগচি পাকিস্তানের ‘ধারাবাহিক ও গঠনমূলক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার’ প্রশংসা করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আরাগচি আজ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেছেন। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই ফোনালাপের বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ও ১২ ফেব্রুয়ারি প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা হয়। কিন্তু কোনো সমঝোতা ছাড়া তা শেষ হয়। এরপর দেশ দুটির মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য চেষ্টা করছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ।
দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ ও পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদে দুটি হোটেল বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অপরাধে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা বসতে ইরান এ পর্যন্ত রাজি হয়নি।
কিন্তু আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে অন্তত ৯টি মার্কিন বিমান যোগাযোগ সরঞ্জাম, যানবাহন, নিরাপত্তা কর্মী এবং কারিগরি জনবল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।
সৌদি আরবে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা এই হুঁশিয়ার বার্তা দিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ইরান ইন্টারন্যাশনালের লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ডেপুটি ইসমাইল সাকাব ইস্ফাহানি বলেন, আমাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা স্পষ্ট। যদি আমাদের কোনো তেলকূপে আঘাত হানা হয়, তাহলে আমরা সৌদি আরবের কোনো একটি তেলক্ষেত্রকে লক্ষ্যবস্তু বানাবো এবং সেই অনুযায়ী জবাব দেব।
তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রতিক্রিয়া কৌশলের মধ্যে আনুপাতিক প্রতিশোধ থেকে শুরু করে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরানের এই কর্মকর্তা এটিকে সিঁড়ি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী হামলা আরও তীব্র হতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করলে প্রতিশোধ নিতে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতর্কিত হামলা চালায়। ইরানি বাহিনী সৌদি আরবের বিমান ঘাঁটিসহ জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলা চালায়।
নিউ ইয়র্ক টাইমস সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বাঁধানোর নেপথ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও রয়েছেন।
অভিযোগ, যুবরাজ সালমান প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর বিপক্ষে কথা বললেও তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে চাপ দিয়েছেন।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats