বাহরাইন, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা # ইরানের হুঁশিয়ারি, ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চলবে
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে ৬০ জন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আল জাজিরা।
ইরনা খবরে বলা হয়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে আজ একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৫১জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় নগর কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমের বলেন, আজ সকালে ইসরায়েল সরাসরি ওই বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। হামলার আগে সেখানে ১৭০ শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলা আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। সূত্র: আল জাজিরা।

হামলা চালিয়ে যাবে ইরান
ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ফারস নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় লক্ষ্য করে হামলা চলবে।
আজ সকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। জবাবে ইরান ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি কাতার, বাহরাইন, আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।
আরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করল আমিরাত
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) আরও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ শনিবার এ কথা জানিয়েছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান উপসাগরীয় দেশ আমিরাত, কাতার, জর্ডান ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।
ইরানে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তিনি একে ‘বিনা উসকানিতে হামলা’ বলে উল্লেখ করে করে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে মস্কোর এই অবস্থান তুলে ধরেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রে লাভরভ। সূত্র: আল জাজিরা।
কাতারে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে
কাতারের রাজধানীতে মাঝেমধ্যেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, কারণ দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা অব্যাহত রেখেছে।
কাতারসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে কাতারের রাজধানীর দোহার উপকণ্ঠে একটি আবাসিক এলাকা থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
প্রত্যাখ্যান করলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তথাকথিত "একতরফা" সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, এটি উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে এবং একটি আরও অনিশ্চিত ও প্রতিকূল বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ পোস্ট করা এক বিবৃতিতে সানচেজ আরও বলেন, তিনি ইরান সরকার এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকাণ্ডকেও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা অবিলম্বে উত্তেজনা হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধার দাবি জানাচ্ছি।’
ইরানের ‘শত শত সামরিক স্থাপনায় হামলা’হয়েছে: ইসরায়েল
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা ইরানের ‘শত শত সামরিক স্থাপনায় হামলা’ চালিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারও। ইসরায়েল সামরিক বাহিনী ইরান থেকে আসা পাল্টা হামলা প্রতিরোধে কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
খামেনি সরকারকে উৎখাত করতে ইরানিদের প্রতি আহ্বান ট্রাম্পের
ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে দেশটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানিদের এ সুযোগ (ইসরায়েল–মার্কিন হামলা) কাজে লাগিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। খবর বিবিসির।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অভিযান শেষ হলে আপনারা আপনাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিন। এটি আপনাদেরই হবে। আগামী কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সম্ভবত এটাই আপনাদের জন্য একমাত্র সুযোগ।’
এদিকে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি অস্ত্র ত্যাগ করে, তবে তাদের ‘ক্ষমা’ করা হবে। অন্যথায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে।
এর আগে জানুয়ারির শুরুতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের ঘটনায় ট্রাম্প দেশটিতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার ৪৮০ জন নিহত হন। সেই সময় ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘সহায়তা আসছে’।
বাহরাইন, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণ
ইসরায়েলের পর এবার বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স ও আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় ওই তিন দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, বাহরাইনের রাজধানী মানামা ও জাফায়ায় বিকট বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, এ এলাকাতেই মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতেও একটি বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে এর উৎস বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। আল-জাজিরা জানায়, কুয়েতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পরপরই দেশজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বাজানো শুরু হয়।
কাতারের দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলোতে যুগপৎভাবে বিস্ফোরণের এসব ঘটনায় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats