তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে জ্বলছে গাড়ি। ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ছবি: রয়টার্স
ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। দুই সপ্তাহ ধরে চলা দেশব্যাপী অস্থিরতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর এই প্রথম কর্তৃপক্ষ এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করল।
রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ওই ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মী—উভয় পক্ষের মৃত্যুর পেছনে ‘সন্ত্রাসীরা’দায়ী। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ মানুষ আর কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি। ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছে। গত তিন বছরের মধ্যে এটি ইরানের কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে ইরান এমনিতেই তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এই আন্দোলন মোকাবিলায় দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। তারা অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে হওয়া প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে ‘বৈধ’ বলে অভিহিত করলেও বাস্তবে অত্যন্ত কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করছে।
ইরান সরকার এই অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে দাবি করেছে, তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীরা’ এই আন্দোলনকে দখল করে নিয়েছে। এর আগে একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছিল, বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে তেহরান সরকারের ইন্টারনেট বন্ধ রাখাসহ যোগাযোগের ওপর নানা বিধিনিষেধ থাকায় তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত এক সপ্তাহে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে রাতের বেলা সংঘর্ষের বেশ কিছু ভিডিও পাওয়া গেছে। এসব ভিডিওতে গোলাগুলি, গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগসহ সহিংস সংঘাতের চিত্র দেখা গেছে।
ইরানের একাধিক বাড়ি থেকে মার্কিন অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার: গোয়েন্দা সংস্থা
আল–জাজিরা জানায়, ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু বাড়ি থেকে মার্কিন অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের দাবি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক কয়েকটি ‘সন্ত্রাসী সেলের’ সদস্যদের কাছে ছিল বলে জানানো হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দেশটিতে সহিংসতা উসকে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘বিদেশি এজেন্ট’ মোতায়েন করেছে, যাতে পরবর্তীকালে (দেশটির বিরুদ্ধে) সামরিক শক্তি ব্যবহারের অজুহাত তৈরি করা যায়।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানান, দেশের বাইরে থেকে বিক্ষোভকারীদের নির্দেশনা দেওয়ার বেশ কিছু অডিও রেকর্ড কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউস বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোসহ ‘অনেক বিকল্প’ তারা বিবেচনায় রাখছে।
ইরানে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এই বিক্ষোভের জেরে দেশটির সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। দেশটি বলেছে, তারা যুদ্ধ চায় না। তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, বরং পাল্টা জবাব দেবে। আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তাঁর দেশ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে তারা আলোচনার পথও খোলা রেখেছে।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানজুড়ে অস্থিরতা চলছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানিও হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তেহরান কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে; মুঠোফোন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদেশি উসকানিমূলক সহিংসতা ঠেকাতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats