জবাবে পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আফগানিস্তানের সেনাপ্রধান
আফগানিস্তানকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেছেন, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের যে কোনো অপতৎপরতায় ইসলামাবাদের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’(শূন্য সহনশীলতা)। তিনি বলেন, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী সবসময় দেশ রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পাকিস্তান জানে কিভাবে যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে হয়।
জবাবে পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আফগানিস্তানের সেনাপ্রধান ফসিউদ্দিন ফিতরাত। টোলো নিউজের বরাত দিয়ে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আফগান সেনাপ্রধান বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো হামলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান ‘আরও শক্তিশালী এবং দৃঢ় ও কার্যকর জবাব’পাবে। এর আগে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আফগানিস্তানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন জানিয়েছে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে তারা জানে। এই পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আল জাজিরা জানায়, মিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ‘আফগানিস্তানে অবস্থান করা বা ভ্রমণের চরম ঝুঁকির’ বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, মার্কিনদের আফগানিস্তান ভ্রমণ সতর্কতা এখনো লেভেল–৪ (ডু নট ট্রাভেল) এ রয়েছে। অস্থিরতা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, বেআইনি আটক, অপহরণ এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার ঝুঁকি বিবেচনায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

২৭৪ জন আফগান সেনা নিহত ও ৭৩টি চৌকি ধ্বংস, দাবি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৭৪ জন আফগান তালেবান সেনা ও জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। এ ছাড়া অভিযানে ৪ শতাধিক আফগান সেনা আহত হয়েছেন, ৭৩টি চৌকি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৭টি চৌকি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের দৈনিক ডন জানায়, আজ শুক্রবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এসব দাবি করেন। জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী আরও জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী আফগান বাহিনীর অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং কামান ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, পাকিস্তান বাহিনী আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আইএসপিআরের মহাপরিচালক বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায়’ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান বাহিনী। আফগানিস্তানের ২২টি স্থানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের ১২ সেনা নিহত
এ পর্যন্ত ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত ও ২৭ সেনা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। আজ শুক্রবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান বলে উল্লেখ করেছে আল জাজিরা।
এদিকে পাকিস্তান ‘বারবার’ যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিল বলে দাবি করেছেন আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। আজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তান সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চায়।
জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তান হামলা চালিয়ে যেতে থাকলে তার কঠোর জবাব দেওয়ার সামর্থ্য আফগানিস্তানের আছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছি। এতে বার্তা দেওয়া হয়েছে—আমাদের হাত তাদের গলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’
জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আরও বলেন, তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিষয়টি এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত অজুহাত’। আর এ বিষয়টি পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু এটি কখনোই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয়।’
আফগান সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে চলমান পরিস্থিতির সমাধান করতে চায় বলেও উল্লেখ করেন জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছি এবং এখনও সমস্যা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চাই।’
পাকিস্তানের তিন শহরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। এ হামলার জন্য সরাসরি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে দায়ী করেছে ইসলামাবাদ। খবর আল–জাজিরার।
তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নওশেরা শহরে ছোট পরিসরে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। তবে পাকিস্তানি বাহিনী ড্রোনগুলো ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। ড্রোন হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটেনি।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে আলোচনায় বসার আহ্বান চীনের
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয় পক্ষকে ‘সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার’ আহ্বান জানিয়েছে। খবর আল–জাজিরার।
চীন আরও বলেছে, তারা নিজস্ব মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে মধ্যস্থতার জন্য কাজ করছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে তারা প্রস্তুত আছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশ হিসেবে চীন উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সংঘাতের কারণে হতাহতের ঘটনায় দুঃখিত। যে কোনো উত্তেজনাই উভয় পক্ষের ক্ষতিসাধন করবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সংঘাত থামানোর বিষয়টি উভয় দেশ ও জনগণের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এটি অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।’
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats