দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বড় ধরনের কোনো ব্যত্যয় বা দৈব দুর্বিপাক না ঘটলে বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে তিনিই হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। এবং জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা শতভাগ। ফলে, এটা অনুমান করা যায় যে—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বাংলাদেশের ১৯ তম ব্যক্তি হিসেবে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। তবে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ বিচারে তিনি দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন।

বিাংলাদেশ সময় আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। সিইসি এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী হিসেবে সই করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। আর সমর্থনকারী হিসেবে সই করেছেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের শুরুতেই দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান।
বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, আজ বিকেল চারটার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর প্রার্থিতা যাচাই–বাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। আজ বেলা ১১টার দিকে কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। এর আগে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। মাঝের সময়ে সাতজন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল থেকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়নি।
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। ফলে ভোটে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা অনেকটাই পরিষ্কার।

বিএনপি ও সরকারের তিন পদে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য উত্তরসূরি কারা
সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। ফলে মির্জা ফখরুলই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, এটা প্রায় পরিষ্কারই। আর তিনি রাষ্ট্রপতি হলে দল ও সরকারের তিনটি পদ ফাঁকা হয়ে যাবে।
বিএনপি ও সরকারের সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের আগেই আজ দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ ছেড়েছেন মির্জা ফখরুল। সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদও ছাড়বেন শিগগিরই। আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সংসদ সচিবালয় মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা করবে। এরপর ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এখন মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে—এ নিয়ে দলের ভেতরে কয়েক দিন ধরে দুজন নেতার নাম বেশি আলোচনায় এসেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলামের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা যতই স্পষ্ট হচ্ছে, ততই সামনে আসছে বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ মহাসচিবের উত্তরসূরি কে হবেন—সে প্রশ্ন। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিবের পদে রয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলটি প্রাথমিকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিলে বা তার আশপাশের সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন করেননি, তাঁকে মন্ত্রিসভায়ও রাখা হয়নি। তাই মহাসচিবের পদ শূন্য হলে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করলে তাঁর মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দেওয়া হবে, নাকি বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলটি প্রাথমিকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিলে বা তার আশপাশের সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে।
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। ফলে ভোটে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা অনেকটাই পরিষ্কার।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে।
সংবিধানের ৫০ (১) ধারায় রাষ্ট্রপতির মেয়াদ উল্লেখ রয়েছে। এ ধারায় বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরের মেয়াদে তাঁহার পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। তবে শর্ত থাকে যে রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর উত্তরাধিকারী-কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। দুই মেয়াদের বেশি কেউ রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না। স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগ করে রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়তে পারেন।’
সংবিধানে আরও বলা আছে, রাষ্ট্রপতি তাঁর কার্যভারকালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবে না। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি পদে থেকে সংসদ সদস্য পদে থাকা যাবে না এ নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না। সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণের দিনেই সংসদে তাঁর আসন শূন্য হয়ে যাবে।
তবে কোনো মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হলে শুধু নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মন্ত্রিত্ব শেষ হয়ে যায়—এমন সরাসরি বিধান নেই। কিন্তু রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর আর মন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকার সুযোগ নেই। কারণ, সংবিধানের ৫৬(১) অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদকে সরকারের মন্ত্রিসভার কাঠামোর অংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ৪৮(২) বলছে, রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান।
অতীতে আবদুর রহমান বিশ্বাস, আবদুল হামিদসহ অন্যান্য নেতা স্পিকার বা মন্ত্রিসভা থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা তাঁদের পূর্বের পদ ত্যাগ করেছিলেন।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats