বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দেশের সঙ্গে স্বাগতিক দেশের যুদ্ধ, টিকেটের আকাশছোঁয়া মূল্য ও সার্বিক খরচ, ফুটবলের আত্মাকে বিক্রি করে দেওয়া এবং আরও নানা বিতর্ক ও প্রশ্নে জর্জরিত এক বিশ্বকাপ
কয়েক মাস আগেই ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে পরিকল্পনা ‘আশা অনুযায়ী’ এগোচ্ছে না। সেই উপলব্ধি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। কারণ, ২০১৮ সালে যখন যুক্তরাষ্ট, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়েছিল, তখন ফুটবল মহলে ব্যাপকভাবে এই ধারণাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে, এটি হতে হচ্ছে ‘চেনা’ ধারাতেই প্রত্যাবর্তন!
বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই এবারের আসরের ত্রুটির নানা দিক।
তিন স্বাগতিক দেশের মধ্যে দুটি আগে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের স্বাগতিক ছিল মেক্সিকো, ১৯৯৪ বিশ্বকাপ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সর্বকালের সবচেয়ে সফল তিনটি বিশ্বকাপের মধ্যে ধরা হয় এই তিন আসরকে। এবারও বিডিংয়ের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে এটি হবে ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং পরিচালনগতভাবে নিশ্চিত।’ রেকর্ড ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার রাজস্ব আয়ের পূর্বাভাসও অবশ্যই এখানে বড় সহায়ক ছিল।
জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সভাপতি হওয়ার প্রথম পূর্ণাঙ্গ টুর্নামেন্টটি ছিল রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপের সমস্যাগুলো থেকে বেরিয়ে আসার একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, যেগুলো তিনি একরকম উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন এবং যে দুটি বিশ্বকাপে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি রাজনীতির থাবা ছিল বলে মনে করা হয়।
অন্যভাবে বললে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটিতে আবার নজর দেওয়া যেত এই বিশ্বকাপে, সেটি হলো ফুটবল খেলাটি এবং এখান থেকে যত অর্থ অর্জিত হতে পারে।
কিন্তু বাস্তবতা পুরো ভিন্ন। বলা যেতে পারে, এই টুর্নামেন্ট নানাভাবে আরও বেশি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। গতানুগতিক বা প্রত্যাশা অনুযায়ী কিছু না ঘটার পরিবর্তে, ২০২৬ বিশ্বকাপ এমন সব অভূতপূর্ব সমস্যা তৈরি করেছে, যা এই প্রতিযোগিতার ৯২ বছরের ইতিহাসে আর কখনও দেখা যায়নি।
এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো, বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হয়েও অংশগ্রহণকারী অন্য একটি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা, যেটি গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।
এটি যদি অন্য কোনো দেশ হতো, তাহলে টুর্নামেন্ট সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া বা বর্জন করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যেত। তবে, এই যুদ্ধের আগেও, টুর্নামেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা এমন অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন, যা সামলানোর উপায় তাদের জানা ছিল না।
কাতারের ‘দাসশ্রম’ ব্যবহারের মতো নৈতিক প্রহসন যদি আসরে নাও থাকে, এবং রাশিয়ার মতো একটি ‘উদার গণতন্ত্রে’ এটি অনুষ্ঠিত হয়, তবুও মার্কিন রাষ্ট্রের অনন্য ধরন এবং সহ-আয়োজকদের সঙ্গে এর সম্পর্ক আরও নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে। এমনকি বিশ্বকাপ ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জরুরি মানবাধিকার অবস্থার সম্মুখীন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে অ্যামনেস্টির একটি প্রতিবেদনে, বিশেষ করে সেখানে তুলে ধরা হয়েছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক ভক্ত এবং এমনকি ফুটবলারদের জন্য সৃষ্ট ‘শীতল হুমকির’ বিষয়টি।
ফিফার এত বেশি অর্থের ‘লোভ’ মূলত একটি উপাদান মাত্র, যা ফুটবলের প্রকৃত বৈশ্বিক সমর্থনের আওতার বাইরে চলে গেছে এবং এমনকি টুর্নামেন্টটিকে এমন ‘অশালীন’ আকারে প্রসারিত করছে যে, এটি হয়তো প্রতিযোগিতাটির মূল উদ্দেশ্যকেই ম্লান করে দিতে পারে।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর সেই প্রতিবেদনে বিশ্বকাপের কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ছোট এই সমস্যাগুলিই বলে দেয় ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্পর্কে অনেক কিছু…
ইরান যুদ্ধ এবং বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দেশে স্বাগতকি দেশের আক্রমণ
মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার খবর যখন আসতে শুরু করল, ফিফা নেতৃত্ব তখন ওয়েলসের হেনসোল ক্যাসলে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের ১৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় একজন অপেরা শিল্পীর গান শুনছিলেন এবং মরিয়া হয়ে তাদের ফোন স্ক্রল করছিলেন খবর জানতে।
তারা বুঝে গিয়েছিলেন যে, বিশ্বকাপকে ঘিরে এটিই সবচেয়ে গুরুতর ব্যাপার এবং ফিফার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১১০ জন শিশুসহ ১৬৮ জন নিহত হওয়ার খবরটি যখন সামনে আসে, তখন এই ধরনের উদ্বেগ, এমনকি ইরানের অংশগ্রহণও, সম্পূর্ণ তুচ্ছ বলে মনে হচ্ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘাঁটি এবং অনেক কর্মীর ভিসা—উভয়ই প্রত্যাখ্যান হওয়ার পর, সোমবার মেক্সিকোতে অবতরণের সময় ইরানি দলটি এই নৃশংসতার কথা তুলে ধরে ল্যাপেল পিন পরেছিল।
আবারও, এই যুদ্ধ নিয়ে মতামত যা-ই হোক না কেন, এটি টুর্নামেন্টের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এর আগে এমন কিছু কখনও ঘটেনি এবং যদি এটি অন্য কোনো দেশ হতো, তাহলে নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টটি বাতিল করার আলোচনা উঠত।
অথচ এবার আলোচনার বেশিরভাগ অংশই ছিল এই বিষয়ে যে, ইরানি জাতীয় দল, নিজ রাষ্ট্রের সঙ্গেই যাদের সম্পর্ক বেশ জটিল, তারা এমন একটি প্রতিযোগিতায় আদৌ খেলতে পারবে কি না, যেটিতে তারা ন্যায্যভাবেই যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই সংঘাত এখন ১০২তম দিনে পড়েছে এবং এটি পুরো বিশ্বকাপের ওর প্রভাব ফেলবে বলে মনে হচ্ছে, যার মধ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য নক-আউট ম্যাচও রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি এবং রাশিয়ার সমান্তরাল
ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ফিফা শান্তি পুরস্কার স্রেফ একটি বিতর্কের বিষয় থেকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ রসিকতার নিছক উপজীব্যে পরিণত হয়েছে। ইনফান্তিনো ‘তোষামুদেভাবে’ ডনাল্ড ট্রাম্পের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়ার পর থেকে, ইরানসহ চারটি ভিন্ন দেশে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৮ সালে এই বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সেই সংখ্যাটি হলো ১২।
টুর্নামেন্টের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বিবেচনা করলে এই সংখ্যা এর মধ্যেই অন্য যেকোনো আয়োজক দেশের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু এর চেয়েও প্রাসঙ্গিক হলো ফেয়ারস্কয়ারের মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভাষায় আগ্রাসনের কাজ, যা ‘উস্কানিহীন, অনাহূত এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত নয়।’
এর আওতায় ভেনেজুয়েলা ও ইরান পড়বে, এবং যুক্ত হবে আরও কিছু বিষয়, যেমন- একজন বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণ; ক্যারিবিয়ানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনেস্কো থেকে নিজেদের প্রত্যাহার।
যদিও ঐতিহাসিকভাবে আয়োজক দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতিকে বিশ্বকাপ আয়োজনের সঙ্গে সাধারণত পৃথক হিসেবেই দেখা হতো, ইউক্রেন আক্রমণের জন্য রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে এখন সেই পরিধি বদলে গেছে। একাধিক মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিলিস্তিনে সংঘটিত একটি ঘটনায় ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছে, যেটিকে জাতিসংঘের একটি প্যানেল ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এদিকে ফেয়ারস্কয়ার বর্ণনা করেছে যে, কীভাবে ট্রাম্পের ‘আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনকে ভেঙে ফেলার বিষয়টি ফিফার অনুমোদন পেয়েছে।’
ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা এবং বিশ্বকাপের নীতি লঙ্ঘন
টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিতর্ক এবং এটি অন্যান্য অনেক বিষয়কেও স্পষ্ট করে তোলে। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে, বিখ্যাত সোমালি রেফারি ওমার আর্তান এবং অসংখ্য ইরানি কর্মীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। শিকাগোতে পৌঁছানোর পর ইরাকি স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অন্যদিকে সেনেগাল এবং উজবেকিস্তান দলকে দেশে কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
আবারও, এটি লক্ষণীয় যে, কোনো আধুনিক বিশ্বকাপে আগে কখনও এগুলো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি। টুর্নামেন্ট আয়োজনের একটি মৌলিক চুক্তিগত শর্ত হলো অংশগ্রহণকারীদের অবাধ যাতায়ত। ২০১৭ সালে ইনফান্তিনো নিজেই যেমন বলেছিলেন, “ফিফা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এটা পরিষ্কার যে, বিশ্বকাপের খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী যেকোনো দল, সেই দলের সমর্থক ও কর্মকর্তাসহ, তাদের দেশে প্রবেশের সুযোগ প্রয়োজন, নইলে কোনো বিশ্বকাপই হয় না।”
২০২৬ সালের জন্য সম্ভাব্য সমস্যাগুলোর বিষয়ে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও, ইনফান্তিনো গত বছরই বলেছিলেন, “এ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আগামী বছর ফিফা বিশ্বকাপের জন্য কানাডা, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবাইকে স্বাগত জানানো হবে।” কিন্তু বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি।
যদিও এখন ফিফা জোর দিয়ে বলছে যে, তারা ‘আয়োজক দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত নয়’, কিন্তু সেখানেও প্রশ্ন আছে। ২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের জন্য ইসরায়েলি দলকে ইন্দোনেশিয়ার প্রবেশে অস্বীকৃতি জানানোর সময়ে ফিফার অবস্থান ছিল ভিন্ন। তাদের কাছ থেকে আয়োজক হওয়ার অধিকার দ্রুতই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং ফিফা অস্পষ্টভাবে ‘বর্তমান পরিস্থিতি’-র কথা বলেছিল।
এই বিতর্কটি ফিফার জন্য আরও খারাপ দেখাচ্ছে, কারণ কিছু নির্দিষ্ট দেশ – বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি – ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাব দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ছিল এবং তাদের সম্পর্কের একটি যুক্তি ছিল এই মনোভাবকে সহজতর করা। কিছু নির্দিষ্ট দলের প্রতি অসম আচরণের কারণে এমনিতেই টুর্নামেন্টের গতিপথই প্রভাবিত হতে পারে। রাশিয়া এবং কাতারকে যে অনেক বেশি অতিথিপরায়ণ হিসেবে দেখা হয়েছিল, তাতেই অনেক কিছু বোঝা যায়।
ইনফান্তিনো-ট্রাম্প সম্পর্ক
ভিসার বিষয়টি এই টুর্নামেন্টের আরও একটি নজিরবিহীন দিক আরও স্পষ্টভাবে ফুটিতে তুলবে। তা হলো ফিফা সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা। এতটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আগে কখনও দেখা যায়নি, এমনকি জোয়াও হাভেলাঞ্জ ও জেনারেল হোর্হে রাফায়েল ভিদেলা কিংবা ইনফান্তিনোর সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্কও নয়।
ফিফার অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছিলেন যে, ট্রাম্পের খামখেয়ালি স্বভাব টুর্নামেন্টে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে তাকে ক্রমাগত তুষ্ট রাখা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেসব তো হচ্ছেই! এই ঘনিষ্ঠতার একটি কারণ হিসেবে ভিসা সহজ করার মতো বিষয়গুলোকেই ধরা হয়েছিল।
বিশ্বকাপ-সম্পর্কিত অনেক বিষয়ে সাহায্যের সম্পূর্ণ অভাব বরং এই প্রশ্ন তোলে যে, ইনফান্তিনো কেন এতে জড়িয়েছিলেন, যেখানে এই সম্পর্কটি ফিফার বিধিমালার পরিপন্থী ছিল। বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার কথা, বিশেষ করে যাতে তারা জটিল ভূ-রাজনীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানসহ বহু রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন ইনফান্তিনো।
এটি আরও বেশি লক্ষণীয় যে, পূর্ববর্তী ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের আমলে এমনটা ঘটেনি। ইনফান্তিনোর শাসনামলের একটি বৈশিষ্ট্য হলো কর্তৃত্ববাদী মনোভাবাপন্ন প্রধানমন্ত্রী এবং এমনকি স্বৈরাচারী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা অন্য সবকিছুর চেয়েও ভিন্ন স্তরের। বিশ্বকাপকে এখানে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করে এটি।
‘MAGA বিশ্বকাপ’ এবং ‘স্পোর্টসওয়াশিং’
বিশ্বকাপের বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ সমস্যা ডেমোক্র্যাট-শাসিত শহরগুলো থেকে আসায় এবং ইউএস সকারের মতো ডেমোক্র্যাট-সমর্থক সংস্থাগুলোকে মূলত বাদ দেওয়ায়, এই বিশ্বকাপে ।লৈ মধ্যেই একটি তীব্র ‘লাল’ আভা রয়েছে।
২০২৫ সালের মার্চ মাসেই দা ইন্ডিপেন্ডেন্ট খবর প্রকাশ করেছিল যে, ‘MAGA (Make America Great Again) বিশ্বকাপ’ আয়োজনে ফুটবলের একাধিক ব্যক্তিত্ব ফিফার সহায়তা করার বিষয়ে কথা বলছিলেন। একজন ঊর্ধ্বতন সূত্রের মতে, “ট্রাম্প তার রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারের জন্য এটিকে ব্যবহার করতে যাচ্ছেন।” অন্য কথায়, এটি ছিল ‘স্পোর্টসওয়াশিং।’
অ্যামনেস্টির মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলো ততদিনে উদ্বিগ্ন ছিল যে, বিশ্বকাপকে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য, প্রতিবাদ দমন এবং ইউনিয়নগুলোর চুক্তি ক্ষুণ্ণ করার একটি মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব রাজনীতিতে চলমান স্বৈরাচারী প্রবণতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আইসিই-এর ‘শীতল হুমকি’
এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বা কোনো খেলা দেখতে আসা কোনো ব্যক্তির হঠাৎ করে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস ইনফোর্সমেন্ট) কর্মকর্তাদের হাতে আটক হওয়ার শঙ্কা। বিশ্বকাপ যেখানে বিশ্বব্যাপী উৎসবের প্রতীক হওয়ার কথা, সেই বাস্তবতা এখানে উধাও। অথচ ৪৮টি দল নিয়ে এটিই এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ!
‘মানবতার জয় আবশ্যক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অধিকার রক্ষা ও দমনপীড়ন মোকাবেল’ শীর্ষ অ্যামনেস্টির একটি প্রতিবেদনে ইতোমধ্যেই একটি সম্ভাব্য “মানবাধিকার জরুরি অবস্থার’ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যার বৈশিষ্ট্য হলো “বৈষম্যমূলক অভিবাসন নীতি, গণ-আটক এবং আইসিই, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) ও অন্যান্য সংস্থার মুখোশধারী, সশস্ত্র এজেন্টদের হাতে নির্বিচার গ্রেপ্তারের ‘শীতল হুমকি।’। প্রতিবেদনটিতে একইভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডালাস, হিউস্টন এবং মায়ামি, সকলেই ‘স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর আইসিই-এর সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে।
অ্যামনেস্টি আরও যোগ করেছে যে, কিছু ভক্ত ‘অনুপ্রবেশমূলক নজরদারির’ সম্মুখীন হচ্ছেন, যেখানে দর্শনার্থীদের তাদের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো ‘আমেরিকাবিরোধী’ মনোভাব যাচাই ও স্ক্রিনিংয়ের জন্য ‘অ্যাভেইলঅ্যাবল’ করতে বাধ্য করার প্রস্তাব রয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ ককবার্ন বলেছেন, “বিস্ময়কর সংখ্যক গ্রেপ্তার ও নির্বাসন সত্ত্বেও, ফিফা বা মার্কিন কর্তৃপক্ষ কেউই এই নিশ্চয়তা দেয়নি যে, ভক্ত এবং স্থানীয় সম্প্রদায় জাতিগত ও বর্ণগত প্রোফাইলিং, নির্বিচার অভিযান, বা বেআইনি আটক ও নির্বাসন থেকে নিরাপদ থাকবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটি থেকে পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষকে নির্বাসিত করেছে – “যা মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে আসা সম্ভাব্য দর্শকের সংখ্যার চেয়ে ছয় গুণেরও বেশি।”
‘হাত গুটিয়ে বসে থাকার’ জন্য ফিফার তীব্র সমালোচনা করেছে ফেয়ারস্কয়ার। টুর্নামেন্টকে ঘিরে আইসিই তাদের নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানায়নি, অন্যদিকে উদ্বোধনী ম্যাচের প্রাক্কালে নির্বাসন আরও বাড়ানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অ�
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats