Thursday, 28 May 2026
The News Diplomats
ডিপ্লোমেটস ডেস্ক :
Publish : 08:05 AM, 28 May 2026.
Digital Solutions Ltd

ট্রাম্পের ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি: কত দেশ ও মানুষ এর আওতায়

ট্রাম্পের ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি: কত দেশ ও মানুষ এর আওতায়

Publish : 08:05 AM, 28 May 2026.
ডিপ্লোমেটস ডেস্ক :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের একটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানকে উদ্দেশ করে কঠোর সামরিক হুমকি দেন। তিনি বলেন, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এমনকি সামরিক হামলার কথাও ইঙ্গিত করেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল খুবই সরাসরি এবং বিতর্কিত। তার ভাষ্যে, ‘ওমান যদি সবার মতো আচরণ না করে, তাহলে আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।’এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। কারণ একে শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে মন্তব্য নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তার দুই মেয়াদে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫টি দেশকে আক্রমণ করেছেন বা আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন, যা বিশ্বের প্রায় ১/১৩ দেশের সমান। এই দেশগুলোতে বিশ্বের প্রায় ১/১১ জন মানুষ বসবাস করে।

ফলে তার ‘উড়িয়ে দেওয়া’ ধরনের সামরিক হুমকি শুধু কয়েকটি দেশের বিষয় নয়, বরং কোটি কোটি মানুষের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে হুমকি

এই পুরো বিতর্কটি বুঝতে হলে আগে হরমুজ প্রণালি কী, তা বোঝা জরুরি। এটি পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যে একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর একটি।

বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়েই যায়। তাই এখানে কোনো ধরনের সংঘাত বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তেলের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ চলাচলে বাধা, সরবরাহ সংকট—সবকিছুই এই এক জায়গার উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত।

ট্রাম্পের হুমকি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প শুধু একটি সাধারণ হুমকিই দেননি; বরং তিনি এটিকে প্রায় ‘অপ্রস্তুত মন্তব্য’ হিসেবে বলেছেন বলে মনে হয়েছে। অর্থাৎ, এটি কোনো বড় নীতিগত ভাষণ ছিল না, বরং বৈঠকের মাঝখানে দেওয়া একটি তাৎক্ষণিক মন্তব্য।

এটাই বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করেছে, কারণ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এমন সংবেদনশীল হুমকি সাধারণত পরিকল্পিত ও নীতিগতভাবে প্রকাশ করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য তিনটি বড় প্রশ্ন তৈরি করে: যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত? এটি কি শুধুই চাপ প্রয়োগের কৌশল? নাকি এটি কূটনৈতিক অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত?

ট্রাম্পের যত হুমকি হামলা

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫টি দেশকে হয় সরাসরি আক্রমণ করেছেন, নয়তো আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন বা সম্ভাবনা খোলা রেখেছেন।

এই সংখ্যাটি বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশের মধ্যে প্রায় ১/১৩ অংশ। এই দেশগুলোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া—এমনকি ইউরোপীয় অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত ভূখণ্ডও রয়েছে।

এই তালিকাটি শুধু সংখ্যা নয়, বরং এটি একটি বড় কূটনৈতিক প্যাটার্ন নির্দেশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার বর্তমান মেয়াদে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭টি দেশে সরাসরি সামরিক হামলা চালিয়েছেন। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেন।

এ ছাড়া, কিছু দেশ আগের মেয়াদেও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই হামলাগুলোর সবই একই ধরনের ছিল না। কিছু হামলা ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, আবার কিছু ছিল রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যবস্তুতে।

এ ছাড়া, ক্যারিবিয়ান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদক চোরাচালান নৌকায় হামলার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৬০টির মতো নৌযান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং ১৯০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

হামলার ঝুঁকিতে কারা?

শুধু হামলা নয়, ট্রাম্প আরও কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষ হুমকি দিয়েছেন। সেগুলো হলো: কানাডা, কলম্বিয়া, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড (ডেনমার্কের অংশ), মেক্সিকো, পানামা ও ওমান।

এ ছাড়া, তার প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়া ও মেক্সিকোও এই ধরনের হুমকির মধ্যে ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তালিকা দেখায় যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ শুধু একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে বিস্তৃত।

ম্যাডম্যান থিওরি’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আচরণ অনেক সময় ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ বা ‘পাগল তত্ত্ব’ নামে পরিচিত কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়।

এই তত্ত্ব অনুযায়ী, একজন নেতা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে অনিশ্চিত, অপ্রত্যাশিত এবং কঠোর হিসেবে উপস্থাপন করেন, যাতে প্রতিপক্ষ দেশগুলো ভয় পেয়ে তার শর্ত মেনে নেয়।

এই কৌশলের ধারণা হলো: শত্রু দেশ ভয় পাবে, তারা ঝুঁকি নিতে চাইবে না, ফলে কূটনৈতিক চাপ কমে যাবে।

কিন্তু এই কৌশলের বড় সমস্যা হলো—এটি ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে এবং বাস্তব সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বৈশ্বিক প্রভাব

ট্রাম্পের এই ধরনের হুমকি শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক প্রভাবও ফেলে।

বিশ্বের তেল সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজার সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল। তাই হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের উত্তেজনা মানেই: তেলের দাম বৃদ্ধি, শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়া, বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি।

বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করে।

কত মানুষ প্রভাবিত?

প্রতিবেদনের সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো—ট্রাম্পের হুমকি পাওয়া ১৫টি দেশ শুধু মানচিত্রে নয়, মানুষের জীবনের ওপরও বিশাল প্রভাব ফেলেছে।

সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী: বিশ্বের প্রায় ১/১১ জন মানুষ এই দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় ৯ শতাংশ মানুষের জীবন কোনো না কোনোভাবে এই রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত।  এটি দেখায় যে এই বিষয়টি কেবল কূটনৈতিক সমস্যা নয়, বরং মানবিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার বিষয়।

ইম্পেরিয়াল অ্যাম্বিশন’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ১৫টি দেশের মধ্যে অন্তত ৫টিকে ট্রাম্প ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেগুলো হলো: কানাডা, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড, পানামা (বিশেষ করে পানামা খাল) ও ভেনেজুয়েলা।

এই বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মহলে ‘ইম্পেরিয়াল অ্যাম্বিশন’ বা সাম্রাজ্যবাদী চিন্তার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ওমানকে নিয়ে দেওয়া ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক কৌশল, উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ।

একদিকে সমর্থকরা বলছেন, এটি শক্ত অবস্থান এবং বৈশ্বিক শত্রুদের বিরুদ্ধে কৌশলগত চাপ। অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করছেন, এই ধরনের বক্তব্য বিশ্বকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং বড় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এটি কি ট্রাম্পের সত্যিকারের সামরিক নীতির অংশ, নাকি রাজনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল?

উত্তর যাই হোক না কেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।

WORLD NEWS বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম আত্মরক্ষায় ‘ব্যাকফুটে’ ৫ আগস্টের সুবিধাভোগীরা, ইউনূস কবে ফিরবেন? শিরোনাম সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এবার ভাঙবেন কে-মেসি নাকি এমবাপ্পে শিরোনাম নানামুখী চাপ বাড়লেও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ পুতিনের হাতেই শিরোনাম যৌন সহিংসতার ‘কালো তালিকায়’ ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করলো জাতিসংঘ শিরোনাম লাল ভুনা নাকি কালা ভুনা, শব্দটির শিকড় বহু পুরোনো শিরোনাম যুক্তরাজ্যের আর্সেনাল জার্সির পাঞ্জাবিতে ঈদের নামাজে মেয়র মামদানি