যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ একটি “বিপজ্জনক নজির : গুতেরেসের মুখপাত্র
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস “একটি বিপজ্জনক নজির” হিসেবে দেখছেন।
কূটনীতিকদের মতে, রাশিয়া ও চীনের সমর্থনে কলম্বিয়া ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠক আহ্বান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইতোমধ্যে অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দু’বার বৈঠক করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেন, “নিরাপদ, যথাযথ ও বিচক্ষণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হওয়া পর্যন্ত” ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। ট্রাম্প কীভাবে ভেনেজুয়েলা তদারকি করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
একটি ঔপনিবেশিক যুদ্ধ : ভেনেজুয়েলা
“এটি একটি ঔপনিবেশিক যুদ্ধ, যার লক্ষ্য আমাদের জনগণের দ্বারা স্বাধীনভাবে নির্বাচিত প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং এমন একটি পুতুল সরকার চাপিয়ে দেওয়া, যা বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদসহ আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে নেওয়ার সুযোগ দেবে,” শনিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে লেখা এক চিঠিতে ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা বলেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সনদ লঙ্ঘন করেছে, যেখানে বলা আছে: “সব সদস্য রাষ্ট্র তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তির হুমকি বা ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে।”
রাতারাতি চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ একটি “বিপজ্জনক নজির” স্থাপন করেছে, এক বিবৃতিতে বলেন গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দ্যুজারিক।
“মহাসচিব আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ সম্মান—সবার দ্বারা—রক্ষা করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে যাচ্ছেন, যার মধ্যে জাতিসংঘ সনদও রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের নিয়মগুলো মানা হয়নি—এ নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন,” বলেন দ্যুজারিক।
গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার উপকূল এবং লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযানকে লক্ষ্য করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সব জাহাজের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছে; গত মাসে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলবোঝাই দুটি ট্যাংকার আটকানো হয়।
অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র তার পদক্ষেপকে জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে যুক্তি দেয়, যেখানে সশস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক কোনো পদক্ষেপ নিলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা পরিষদকে জানানো বাধ্যতামূলক।
“এটি সরকার পরিবর্তন নয়, এটি ন্যায়বিচার,” শনিবার এক্সে পোস্ট করেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। “মাদুরো ছিলেন অভিযুক্ত, অবৈধ এক স্বৈরশাসক, যিনি ঘোষিত এক নার্কো-সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা আমেরিকান নাগরিকদের হত্যার জন্য দায়ী।”
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats