12 September 2026
The News Diplomats
দুলাল আহমদ চৌধুরী :
Publish : 10:59 AM, 10 September 2026.
Digital Solutions Ltd

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন

আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে বাংলাদেশ

আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে বাংলাদেশ

ড. খলিলুর রহমান

Publish : 10:59 AM, 10 September 2026.
দুলাল আহমদ চৌধুরী :

২০২৬ সালের ২ জুন, জাতিসংঘ  সাধারণ পরিষদ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে অন্যতম বিরল একটি ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। সেদিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এশিয়া—প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত পদের বিপরীতে দুজন প্রার্থী—বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকোরিস—প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ। ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ড. রহমান।

সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদটি কেবল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এজেন্ডা ব্যবস্থাপনা, কার্যপ্রণালী বিধির ব্যাখ্যা, আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক মধ্যস্থতা এবং বিভিন্ন আন্তঃসরকারি আলোচনার সহ-সহায়ক (কো-ফ্যাসিলিনেটর) নিয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক আলোচনার গতিপথ ও পরিবেশ তৈরিতে এটি অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। সংসংগঠনগতভাবে সীমাবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও একজন প্রজ্ঞাবান প্রেসিডেন্ট কীভাবে তাঁর অর্জিত প্রক্রিয়াগত কর্তৃত্ব ও নিজস্ব বিবেচনাবোধকে কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারেন, তা অনুধাবন করা আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রেসিডেন্ট  পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন সচরাচর দেখা যায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সর্বসম্মতিক্রমে প্রেসিডেন্ট  নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি ঘিরে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে: ঐতিহাসিকভাবে কেবল আনুষ্ঠানিক বা প্রতীকী হিসেবে বিবেচিত একটি পদের জন্য সরকারগুলো কেন তাদের কূটনৈতিক পুঁজি বিনিয়োগ করেছে? সীমিত ক্ষমতা ও এক বছর মেয়াদি একটি আবর্তনশীল পদের জন্য কেনই—বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রয়োজন ছিল?

তবে এই ধারণাটি বিভ্রান্তিকর; প্রেসিডেন্টের পদটি কেবল আনুষ্ঠানিক নয়। প্রেসিডেন্ট পরিষদের আলোচ্যসূচি ও কর্মপরিকল্পনা পরিচালনা করেন, সভা আহ্বান করেন, একই সাথে চলতে থাকা বহু আন্তঃসরকারি আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সহ—সহায়ক (কো—ফ্যাসিলিটেটর) নিয়োগ করেন, পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পরিষদের কার্যপ্রণালী—সংক্রান্ত বিধিবিধানের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করেন এবং পরিষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তগুলোতে অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। কার্যপ্রণালী—সংক্রান্ত (রুলস অব বিজনেস) বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার জন্য প্রতিনিধিদলগুলো প্রায়শই প্রেসিডেন্টর শরণাপন্ন হয়। এর ফলে বাস্তবে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এই পদটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে।

এই কাজগুলোই নির্ধারণ করে কী নিয়ে আলোচনা হবে, কখন হবে এবং আলোচনা আদৌ সামনের দিকে অগ্রসর হবে কি না। এগুলোর গঠনগত রূপ কার্যপ্রণালী—সংক্রান্ত হলেও এর ফলাফল বা প্রভাব মূলত রাজনৈতিক। কোনো স্বাধীন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ছাড়াই এই পদটি তার প্রভাব বিস্তার করে।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো এমন একটি পদ সৃষ্টি করেছে যা এমন সব সমন্বয়মূলক কাজ সম্পাদন করে যা কোনো একক সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষে করা সম্ভব নয়।  তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন সব সম্পদ ও ধারাবাহিকতার ব্যবস্থা রাখেনি যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের পদটি স্বাধীন কর্তৃত্ব অর্জন করতে পারে। তবে উল্লেখ করার মত বিষয় যে, একদিকে পদটি এতটাই প্রয়োজনীয় যে এর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সার্থক মনে হয়, আবার পদটির এতটাই সীমাবদ্ধতা যে একে নিয়ন্ত্রণিত মনে হয়।

প্রেসিডেন্সির আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও, সাধারণ পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এর ব্যাখ্যাদান ও কার্যপদ্ধতি—সংক্রান্ত যথেষ্ট কর্তৃত্ব রয়েছে। এর কর্তৃত্ব সনদ (চার্টার) ও কার্যপ্রণালী বিধিমালা  থেকে উদ্ভূত হলেও, আলোচ্যসূচি ব্যবস্থাপনা, কার্যপদ্ধতির ব্যাখ্যা, অধিবেশন আহ্বানের ক্ষমতা, প্রধান অঙ্গসংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কূটনৈতিক মধ্যস্থতা (গুড অফিস) ব্যবহারের মাধ্যমে তা বিধিমালাগুলোর আক্ষরিক প্রয়োগের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই পদটি এমন সব কৌশলের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে যা গঠনগতভাবে কার্যপদ্ধতি—কেন্দ্রিক হলেও বাস্তবে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলে। এর মাধ্যমেই আলোচনা, পর্যালোচনা এবং যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবেশ ও শর্তাবলি নির্ধারিত হয়।  এখন দেখা যাক প্রেসিডেন্ট কীভাবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

কোন বিষয়গুলো রাজনৈতিক মনোযোগ আকর্ষণ করবে, প্রেসিডেন্সি তা নির্ধারণ করে। কোন আলোচ্য বিষয়গুলো বিবেচিত হবে, কখন বিবেচিত হবে এবং কীভাবে সেগুলোকে উপস্থাপন বা বিন্যস্ত করা হবে—তা নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট ভূমিকা রাখেন। ‘জেনারেল কমিটি’—র মাধ্যমে প্রেসিডেন্সি অধিবেশনের কর্মপরিকল্পনা সাজায় এবং এমন সব কার্যপদ্ধতি—সংক্রান্ত ব্যবস্থার প্রস্তাব করে যা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার ধরন নির্ধারণ করে। তবে বিভিন্ন অধিবেশন ভেদে প্রেসিডেন্টরা জেনারেল কমিটিকে কতটা সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করবেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। কোনো কোনো প্রেসিডেন্সি সারা বছর ধরে এই কমিটিকে কার্যক্রম পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে, আবার অন্য কোনো ক্ষেত্রে একে কেবল কার্যপদ্ধতিগত সমন্বয়ের একটি সীমিত পরিসরের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সময়, ক্রম এবং বিষয়বস্তু সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ না করলেও, এগুলো এমন সব বিষয়কে প্রভাবিত করে যা রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা লাভ করে, কূটনৈতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং আলোচনার গতিবেগ (মোমেন্টাম) তৈরি করে। আনুষ্ঠানিক সময়সূচি নির্ধারণের বাইরেও, প্রেসিডেন্ট ক্রমবর্ধমানভাবে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন; যেমন—সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের (জেনারেল ডিবেট) জন্য বার্ষিক প্রতিপাদ্য নির্বাচন, উচ্চ—পর্যায়ের বৈঠকের পরিধি ও কাঠামো নির্ধারণ, এবং বিষয়ভিত্তিক বিতর্ক, প্রাতঃকালীন সংলাপ ও পরিষদের অন্যান্য আয়োজনের বিষয়বস্তু ঠিক করা।

আলোচনার প্রক্রিয়াটি যেসব নিয়মের অধীনে পরিচালিত হয়, প্রেসিডেন্সি সেই নিয়মগুলোকেও রূপ দান করে। সাধারণ পরিষদের কাজের একটি বড় অংশ কেবল আনুষ্ঠানিক নিয়মের ওপরই নয়, বরং বাস্তবে সেই নিয়মগুলোর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের পদ্ধতির ওপরও নির্ভর করে। বক্তার ক্রম, সভার ধরন, ভোটগ্রহণের পদ্ধতি, বিবেচ্য বিষয়গুলোর ক্রমবিন্যাস এবং বিতর্ক পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রায়শই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। কার্যপ্রণালী বিধিমালা একটি কাঠামো প্রদান করে ঠিকই, কিন্তু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেই কাঠামোটি কীভাবে কাজ করবে, তা প্রায়শই নজির (প্রিসিডেন্স) এবং প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি দ্বারা নির্ধারিত হয়। কার্যপ্রণালী সংক্রান্ত কর্তৃত্ব মূলত প্রেসিডেন্টের নিজস্ব বিবেচনা, প্রাতিষ্ঠানিক নজির এবং সচিবালয়ের দক্ষতার সমন্বয়ে কার্যকর হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট সভা চলাকালে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যপ্রণালী বিষয়ক নির্দেশনা প্রদান করেন, তবে এসব সিদ্ধান্ত সাধারণত পরিষদের প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি, কার্যপ্রণালী সংক্রান্ত নজির এবং ইউ এন ডিপার্টমেন্ট ফর জেনারেল এসেম্বলি এন্ড কনফারেন্স ম্যানেজমেন্ট  এবং প্রয়োজনে অফিস অব লিগ্যাল এ্যাফেয়ার্স থেকে প্রাপ্ত পরামর্শের ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হয়। কার্যপ্রণালী সংক্রান্ত কর্তৃত্ব আসলে সেই পরিস্থিতির ওপর কর্তৃত্বের সমতুল্য, যার অধীনে রাজনৈতিক মতপার্থক্যগুলো মোকাবিলা করা হয়। এখানে প্রভাব সরাসরি কোনো ফলাফল নির্ধারণের চেয়ে বরং সেই প্রক্রিয়াটিকে রূপ দেওয়ার মাধ্যমেই বেশি অর্জিত হয়, যার মধ্য দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারিত হয়।

আলোচনার আয়োজন কীভাবে করা হবে, প্রেসিডেন্সি তাও নির্ধারণ করে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রায়শই প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করে যেন তিনি তার কর্তৃত্বের অধীনে আলোচনা পরিচালনার জন্য সহ—সহায়ক বা সহ—সভাপতি নিয়োগ করেন। সমগ্র সদস্য রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট এই নিয়োগগুলো দিয়ে থাকেন। ফলে, পরিষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনেক আলোচনা প্রক্রিয়া কারা পরিচালনা করবেন, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্সি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় নিজস্ব বিবেচনাবোধ প্রয়োগের সুযোগ পায়। এছাড়া প্রেসিডেন্ট সামগ্রিক প্রক্রিয়ার কাঠামো নির্ধারণ করেন, পরামর্শ সভার আয়োজন করেন এবং আলোচনা কোনো অচলাবস্থায় পৌঁছালে তা নিরসনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।

সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও বর্ণিত মাধ্যমগুলো প্রেসিডেন্সিকে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করা, কার্যপদ্ধতি সাজানো, আলোচনার প্রক্রিয়া প্রণয়ন এবং সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ সুগম করার সুযোগ করে দেয়। এদের প্রভাব পরোক্ষ হলেও সুদূরপ্রসারী নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করে। কোনো ফলাফল অর্জনের জন্য যে পরিস্থিতির প্রয়োজন হয়, তা তৈরিতেই এরা ভূমিকা রাখে। আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার তুলনায় এই প্রভাব কম দৃশ্যমান। তবে প্রেসিডেন্সির ভূমিকাকে ‘আলংকারিক’ বা ‘আনুষ্ঠানিক’ হিসেবে অভিহিত করাটা বাস্তবসম্মত নয়। প্রেসিডেন্টের প্রভাব কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা বাইরে থেকে বোঝা বা পর্যবেক্ষণ করা কঠিন।

সময়ের সাথে সাথে প্রেসিডেন্ট পদের কাঠামোয় অনেক সংস্কার আনা হয়েছে। এ পদে সংস্কারের আলোচনায় প্রায়শ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়ে থাকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো কি এমন একজন প্রেসিডেন্ট চায় যিনি কেবল প্রতি বছর পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, নাকি এমন কাউকে চায় যার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে পদক্ষেপ গ্রহণ ও পরিষদের পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সহায়তা করার মতো যথেষ্ট কর্তৃত্ব, ক্ষমতা ও স্বাধীনতা থাকবে?

একজন দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান প্রেসিডেন্ট তার কাজের ধারার মাধ্যমে এই পদের ভূমিকা সম্প্রসারিত করতে পারেন; আবার একজন পদ্ধতি—সর্বস্ব প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বকাল পূর্ণ করে পরবর্তী প্রেসিডেন্টের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদটি কাঠামোগতভাবে কেবল কার্যপ্রণালী-ভিত্তিক মনে হলেও, বাস্তবে তা বৈশ্বিক কূটনীতির এজেন্ডা নির্ধারণ ও কৌশলগত আলোচনা পরিচালনার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। ড. খলিলুর রহমানের জয়লাভ বৈশ্বিক নীতি-নির্ধারণী মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান ও কূটনৈতিক সক্ষমতার এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। কেবল আনুষ্ঠানিকতার ঊর্ধ্বে উঠে আলোচনার বিষয়বস্তু সাজানো, সহ-সহায়ক নিয়োগ এবং মতপার্থক্য নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের যে সুযোগ এই পদে রয়েছে, তা বিশ্বমঞ্চে নিরপেক্ষ ও প্রভাব বিস্তারকারী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই বিরল সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) উত্তরণ এবং মানবিক সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ ও ঐকমত্য গঠনের ক্ষেত্রে এই প্রেসিডেন্সি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। পরিশেষে, এই দায়িত্ব বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাকে তুলে ধরার পাশাপাশি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতিসংঘ গঠনে দেশের সক্রিয় প্রতিশ্রুতিকেই পুনর্ব্যক্ত করে।

দুলাল আহমদ চৌধুরী, সম্পাদক ও প্রকাশক, নিউজ ডিপ্লোমেটস

UN/CLIMATE CRISIS বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম স্কারবরো সাউথওয়েস্টের কল্যাণে পরিকল্পনা তুলে ধরে লায়েক চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু শিরোনাম ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি ও এমওইউ পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ শিরোনাম সাইবার সুরক্ষা আইন: মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা হরণের ব‍্যাপক ঝুঁকি: টিআইবি শিরোনাম আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে বাংলাদেশ শিরোনাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ডাক আমিরাতের, সঙ্গে আরও ৭ মুসলিম দেশ শিরোনাম পৃথিবী বদলালেও বদলেনি যুক্তরাষ্ট্র, নতুন করে মামদানি বিতর্ক