মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল নজরদারি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন। ছবি: ইউএস নেভি
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযোগকারী হরমুজ প্রণালির আকাশে নিখোঁজ হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল নজরদারি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই ড্রোনটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চালকবিহীন এই অত্যাধুনিক ড্রোনের মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা)। পাকিস্তান বৈঠকের আগমুহূর্তে এই ড্রোন নিখোঁজের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রকে ভাবিয়ে তুলেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের বরাতে জানিয়েছে, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে টানা তিন ঘণ্টা নজরদারি শেষ করে ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফিরছিল। অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যমতে, নিখোঁজ হওয়ার আগে ড্রোনটি ইরানের দিকে কিছুটা মোড় নেয় এবং জরুরি সংকেত ‘কোড ৭৭০০’ পাঠাতে শুরু করে। এরপর এটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকে এবং একপর্যায়ে রাডার থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে ড্রোনটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি কেউ গুলি করে নামিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, দুই দিন আগেই পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে।
২০০ মিলিয়ন ডলারের ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ৫০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি উড়তে পারে। সাত হাজার ৪০০ নটিক্যাল মাইল পাল্লার এই ড্রোন মূলত পি-৮এ পসাইডন টহল বিমানের ‘চোখ’ হিসেবে কাজ করে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে এ ধরনের ২০টি ড্রোন ছিল এবং আরও সাতটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিখোঁজ হওয়া এই ড্রোনের খবরের মাঝেই সামনে এসেছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের হিসাব। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সেকেন্ডে খরচ করছে ১০ হাজার ৩০০ ডলার (প্রায় ১২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা)।
এর মধ্যে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার (৩৬ শতাংশ), বিমান অভিযানের জন্য প্রতিদিন ২৪৫ মিলিয়ন ডলার (২৭.৫ শতাংশ), নৌ অভিযানে প্রতিদিন ১৫৫ মিলিয়ন ডলার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় (থাড, প্যাট্রিয়ট) প্রতিদিন ৯৫ মিলিয়ন ডলার, গোয়েন্দা ও সাইবার অপারেশনে প্রতিদিন ৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং রসদ ও জনবলে প্রতিদিন ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
ইরান যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই যুদ্ধে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা) খরচ করেছে ওয়াশিংটন। এ পর্যন্ত যুদ্ধে দেশটির মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে (প্রথম ৩ সপ্তাহে) আনুমানিক ২৭ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা)।
এসআইপিআরআইয়ের তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির আগপর্যন্ত ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিদিন গড়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৮৯০ মিলিয়ন ডলার। এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়েছে গোলাবারুদ, বিমান হামলা, নৌ সেনা মোতায়েন এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে।
এর মধ্যে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রে প্রতিদিন খরচ হয়েছে ৩২০ মিলিয়ন ডলার, যা মোট ব্যয়ের ৩৬ শতাংশ। টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং জেডিএএম বোমার মতো নির্ভুল লক্ষ্যভেদী মারণাস্ত্রের পেছনে গেছে এই অর্থ। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১২ থেকে ১৫ হাজার গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে ১ থেকে ২ হাজার ছিল শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র।
যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন, বোমাবর্ষণ এবং গোয়েন্দা নজরদারিতে প্রতিদিন খরচ হয়েছে ২৪৫ মিলিয়ন ডলার (মোট ব্যয়ের ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ)।
নৌ অভিযানের অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরি এবং সাবমেরিন পরিচালনার জন্য প্রতিদিন ব্যয় হয়েছে ১৫৫ মিলিয়ন ডলার।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাড এবং প্যাট্রিয়টের পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হয়েছে ৯৫ মিলিয়ন ডলার। গোয়েন্দা কার্যক্রমে সহায়ক কৃত্রিম উপগ্রহের চিত্র এবং সাইবার কার্যক্রমের পেছনে প্রতিদিন ৪৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে পেন্টাগন। এ ছাড়া রসদ ও জনবলে (সৈনিকদের বেতন ও লজিস্টিকস খাতে) প্রতিদিন ব্যয় হয়েছে ৩০ মিলিয়ন ডলার।
ইরান যুদ্ধের খরচ মেটাতে ট্রাম্পের দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটইরান যুদ্ধের খরচ মেটাতে ট্রাম্পের দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম তিন সপ্তাহেই সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ১ দশমিক ৪ থেকে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ হারিয়েছিল। এই ঘাটতি মেটাতে পেন্টাগন হোয়াইট হাউসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ বাজেটও চেয়েছে।
সর্বশেষ ৩ এপ্রিল চলমান ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন (১৫০০ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি ছিল গত এক বছরে পেন্টাগনের মোট ব্যয়ের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats