কারও চাহিদা তো অপূর্ণ রাখিনি, উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে হাসিনা, বললেন, তাঁর সময়ে বাংলাদেশে বেকারত্ব ছিল না # ইউনূসের আক্রমণ ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু। এখনও পর্যন্ত এই নির্যাতন এবং ঘরে ঘরে হত্যাকাণ্ড চলছেই # আমাদের উপর দোষারোপ করা হয়েছিল যে ২০১৮ সলের নির্বাচন প্রশাসন করে দিয়েছে, তা হলে এখন ইউনূস কী করছে?
সামনেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। তার আগে মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে নির্যাতন, আর্থিক দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ এবং নিজের ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার আওয়ামী লীগের একটি আলোচনাসভায় ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন হাসিনা। অনুষ্ঠানে তাঁর প্রশ্ন, আওয়ামী লীগের দোষ কোথায়? তিনি বলেন, “১৫ বছরে বাংলাদেশে কী কী হয়েছে এবং ১৫ মাসে কী কী হচ্ছে, সব হিসাব করে দেখুক। তবে বোঝা যাবে তখন কী হয়েছে, আর এখন কী হচ্ছে।”
হাসিনা জানান, ইউনূসের আক্রমণ ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু। এখনও পর্যন্ত এই নির্যাতন এবং ঘরে ঘরে হত্যাকাণ্ড চলছেই। এমনকি পরিবারের সদস্যেরাও রেহাই পান না। তিনি বলেন, “ইউনূস ক্ষমতা দখল করার জন্য একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছেন, মানুষের উপর নির্যানত করে যাচ্ছেন, সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সরকারি দফতরে আগুন লাগিয়ে ছাড়খাড় করে দিচ্ছেন।” তাঁর সংযোজন, “বর্তমানে সব পরিবারের দুর্দশা, নির্যাতনের কথা শুনলে আর সহ্য করা যায় না। বাবা-মা, ভাই-বোন আমি হারিয়েছি। কাজেই তাঁদের দুঃখের কথা বুঝতে পারি।”
হাসিনা অভিযোগ, “বর্তমানে বাংলাদেশের যা বিচারব্যবস্থা, তাতে বিচার চাওয়ার কোনও জায়গা নেই। এক একটা বিশ্ববিদ্যালয়কে আয়নাঘর বানিয়ে দিয়েছে।” বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে হাসিনা বলেন, “আজকে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে। একদম শেষ করে দিচ্ছে। সমস্ত মানুষের মাথার উপর ঋণের বোঝা। ঘরে ঘরে লাশ।”
তাঁর প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ কী অপরাধটা করেছে? এই দেশ স্বাধীন করেছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, “২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোনও মানুষের চাহিদা তো অপূর্ণ রাখিনি। সরকারি চাকরির সুযোগ করে দিই। মেয়েরা যেন ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে চাকরিতে ঢুকতে পারে, আমি সে ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। ফ্রিলান্সার ট্রেনিং দিয়ে যেন তাঁরা ঘরে বসে বিদেশে অর্থ উপার্যন করতে পারে সেই ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। বেকারত্বের কোনও বিষয় ছিল না তখন। মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ সে সময় বেকার ছিলেন। প্রত্যেকের রোজগারের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। এমনকি একজন তরুণ যেন নিজে দাঁড়াতে পারে, স্টার্ট-আপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে তাঁদের টাকা দিয়েছি।”
হাসিনার দাবি, “সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দমন করে মানুষের জীবনের শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলাম। কিন্তু তার পর শুনলাম আমরা নাকি মানুষ মেরে লাশ পুতে রেখেছি। এই অভিযোগ কি একটাও প্রমাণ করতে পেরেছে? আমরা মানুষ মারতে যাব কেন?”
হাসিনার দাবি, “২০২৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রত্যেকটা মানুষের আয় রোজগারের ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছিলাম। কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না, তার ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলাম। বিনা পয়সায় ওষুধের ব্যবস্থা করেছি। ছেলে-মেয়েদের বৃত্তি দেওয়া, বিনা পয়সায় বই দেওয়া, চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া। সরকারি চাকরিতে সুযোগ করে দেওয়া। প্রত্যেকের বেতন-ভাতা আমি ২৩ গুণ বাড়িয়েছিলাম। প্রত্যেকটা মানুষের জীবন আমি উন্নত করে দিয়েছিলাম। কিন্ত আজকে ইউনূস সব ধ্বংস করে দিল। আজকে যে রাস্তা-ঘাট, হাসপাতাল রয়েছে সবই তো আমি আমার সময় করে দিয়েছি। সেইগুলি তো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এত কিছু করার পরও শুনতে হয়েছে আমরা নাকি দুর্নীতি করছি। কিসের দুর্নীতি?”
হাসিনা দাবি, ১০ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের খুন করা হয়েছে। ১ কোটি সম্পদ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কারাগারে বন্দি আওয়ামী লীগের সদস্যদের প্রতিনিয়ত অকথ্য অত্যাচার, এবং নির্যাতন করা হয়। সম্প্রতি ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসানের ন’মাসের সন্তান তাঁর স্ত্রীর রহস্যমৃত্যু হয়। তার পরও জেলবন্দি জুয়েলের প্যারোল মঞ্জুর হয়নি। হাসিনা বলেন, “তাদের অপরাধটা কি ছিল? ওটা আত্মহত্যা নয়। আর আত্মহত্যাই যদি হয় তা-হলে যারা প্ররোচনা দিয়েছে, তারাও দায়ী। তাদের বিরুদ্ধেও হত্যার বিচার হবে। এটাই হচ্ছে সাধারণ নিয়ম।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে হাসিনার প্রশ্ন, সরকারি আধিকারিকদের ব্যবহার করে যদি নির্বাচন হয় তা হলে ওই নির্বাচনের লাভ কী? তাঁর বক্তব্য, “আমাদের উপর দোষারোপ করা হয়েছিল যে ২০১৮ সলের নির্বাচন প্রশাসন করে দিয়েছে, তা হলে এখন ইউনূস কী করছে?”
খবর: আনন্দবাজার ডটকম
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats